বিপুল অপচয় রোধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে অবশেষে তিতাস গ্যাসের পাইপ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জরাজীর্ণ এসব পাইপ পরিবর্তনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণ দিচ্ছে ব্রিকস জোটের ব্যাংক-এনডিবি।
গ্যাস লিকের কারণে কিছুদিন পরপরই হচ্ছিলো দুর্ঘটনা, বাতাসেও বাড়ছিল মিথেন গ্যাসের পরিমাণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বললেন, মেরামতের হলে সিস্টেম লস ও গ্যাস চুরি বন্ধ হবে।
সামান্য বৃষ্টিতেই গ্যাসের বুদবুদ দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। পাইপ লাইনের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে বিস্ফোরণও হয়। আবার পাইপ থেকে গ্যাস লিক হয়ে বাতাসে ছড়ায় গ্যাসের গন্ধ।
এছাড়া তিতাস গ্যাসের বিরুদ্ধে সিস্টেম লস ও গ্যাস চুরির অভিযোগও পুরনো।
এই পাইপ লাইন পরিবর্তনের জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবিসহ অনেক দাতার কাছে চেয়েও ঋণ পাওয়া যায়নি। নতুন অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস -এর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এনডিবি থেকে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, অন্যান্য দাতা সংস্থা ফুয়েলের ওপর তেমন অর্থায়ন করতে চায় না।
তিতাসের পাইপ লাইন পরিবর্তন ও বাসাবাড়ির প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তিতাস ছয় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সক্ষম। বাকিটা এনডিবি থেকে পেলে গ্যাসের এই অপচয় বন্ধ করা যাবে বলে জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশাবাদী তিতাসের এরিয়ার যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো সব ঠিক করা হবে। আমরা পুরোটাই নতুন করে করবো।
ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলছেন, পাইপ লাইনে ছিদ্রের কারণে ঢাকার বাতাসে মিথেন বাড়ছে। তাই পাইপ লাইন পরিবর্তন করা গেলে অর্থ, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
ইমামের মতে, পাইপ লাইনে প্রচুর ছিন্দ্র আছে। ঢাকার ওপর স্যাটেলাইট থেকে দেখা যায় মিথেনের আবরণ।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছে ইইউ দল
ফসিল ফুয়েল প্রকল্পের জন্য এখন অর্থ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। তবে তিতাস গ্যাসের বিশেষ প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যই জরুরি মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।
একাত্তর/আরএ
