বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের একটি বড় অংশই আসে চীন থেকে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যতো বাড়ছে, আমদানি ও রপ্তানির তথ্যে গরমিলও ততই বাড়ছে। চীন বলছে, গেলো পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশে তারা রপ্তানি করেছে ৯০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। কিন্তু বাংলাদেশ বলছে, চীন থেকে আমদানি হয়েছে ৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। হিসেবে ফারাক ২১ বিলিয়ন ডলারের।
বাংলাদেশের জন্য যা আমদানি, চীনের জন্য সেটি রফতানি। দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি তথ্যে কিছু পার্থক্য ধরা পড়েছে। দেখা গেছে আমদানি-রপ্তানি যতো বেড়েছে টাকার অঙ্কের পার্থক্যটাও ততো বেড়েছে।
যেমন, ২০২১-২২ অর্থবছরে চীন থেকে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির কথা বলছে বাংলাদেশ। কিন্তু চীন বলছে ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে তারা ২৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের পন্য রপ্তানি করেছে। তাহলে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কোথায় গেলো?
একইভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের তথ্য ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার হলেও চীনের হিসাবে ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তার আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের তথ্যের চেয়ে প্রায় ৬ বিলিয়ন বেশি আমদানির তথ্য দিচ্ছে চীন। এভাবে গত পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশের সাথে চীনের আমদানি-রপ্তানিতে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের গড়মিল পাওয়া গেছে। যেটিকে বিস্ময়কর বলছেন বিশ্লেষকরা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ ধরণের পার্থক্যটি শুধুমাত্র যে বছরের হিসেবের সময়কালের বিবেচনার পার্থক্যের কারণে, অথবা মূল্যগত পার্থ্যকের কারণে বা আমাদের এখানে ডলারের দাম, এসব দিয়ে পুরোটা ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। সমস্যা হচ্ছে মিস ডিকলারেশন সংক্রান্ত এবং এখানে আমদানিকারকরা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। পাশপাশি ব্যাংকের একটা ভূমিকা রয়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা।
তিনি আরও বলেন, এসব বিবেচনায় নিলে সরকার একটি বড় পরিমাণ শুল্ক হারাচ্ছে।
প্রতিবছর গড়ে চার বিলিয়ন অথ্যাৎ ৪০০ কোটি ডলারে এই পার্থক্যকে অস্বাভাবিক বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের শঙ্কা আন্ডার ইনভয়েস করে পণ্যের দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ বলেন, অবশ্যই এখানে দাম কম দেখানো হয়েছে। সরকারের প্রাপ্য শুল্ক দেয়া হয়নি, কম দেয়া হয়েছে।
আমদানি-রফতানিতে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখানো তথা আন্ডার ইনভয়েস বা ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে বিদেশের টাকা পাচার করাটাও একটি সহজ পদ্ধতি।
একাত্তর/আরবিএস
