বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার ছয় ভাই ও দুই ছেলেসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের ব্যাংক হিসাবের সব ধরনের তথ্য তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
একই সঙ্গে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে পরিচালিত হিসাব ও অন্যান্য তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
রোববার সব ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। সব মিলিয়ে ১৩ ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওই সব ব্যক্তির নিজ বা যৌথ নামে কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে পরিচালিত হিসাব, লকার ও সঞ্চয়পত্রের তথ্য, যেমন হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহক সম্পর্কিত তথ্য বা কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদির সফট কপি এবং তাদের জামানত ও ঋণ পরিশোধের তথ্যসহ ঋণ হিসাবসংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে।
যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের নাম, পিতা ও মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এবং জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে বিআইএফইউর নির্দেশনায়।
সাইফুল আলমের অন্য ভাইয়েরা হলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, ওসমান গনি, আবদুস সামাদ, রাশেদুল আলম, সহিদুল আলম ও মোরশেদুল আলম। এ ছাড়া সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আহসানুল আলম ও আশরাফুল আলমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় আরও রয়েছেন ফারজানা বেগম, শাহানা ফেরদৌস ও মিসকাত আহমেদ।
আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক দখল, ঋণের নামে অর্থ লোপাট এবং অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের দখল করেছিলো এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির ঋণের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বা ৫০ হাজার কোটি টাকাই এই গ্রুপের কাছে। ওই বছরের অক্টোবরে অনেকটা একই কায়দায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় গ্রুপটি। ব্যাংকটি থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে তারা।
এই দুটি ব্যাংকই সম্প্রতি এস আলমের প্রভাব মুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ করেছে।
এস আলম ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব