অনির্দিষ্টকালের জন্য পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। শুক্রবার ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মহাপরিচালকের দপ্তর (ডিজিএফটি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য তদারক করে ডিজিএফটি।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নেয়া এমন পদক্ষেপ বিদেশি বাজারে পেঁয়াজের উচ্চমূল্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তারিকারক দেশ ভারত। ডিসেম্বরে পেঁয়াজের রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তার আগেই নতুন করে নিষেধাজ্ঞার বার্তা দিলো দেশটি।
তবে চলমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের এই নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই তুলে নেয়া হবে বলে আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এছাড়া, চলতি মৌসুমের ফসলের নতুন সরবরাহও শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের কিছু পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ডিসেম্বরে প্রতি একশ কেজি পেঁয়াজের মূল্য সাড়ে চার হাজার রুপি ছিলো। তা কমে এখন বারোশ’ রুপিতে নেমেছে।
২০২৩ সালের ৩১ মার্চ অর্থ বছরে ভারত রেকর্ড ২৫ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে।
গত মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় গত কয়েকমাস ধরেই পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ দেখে আসছে বাংলাদেশের ভোক্তারা। আর ভারত রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ায় দাম বাংলাদেশে দাম আরো বাড়ে। এরই মধ্যে রোজার মাস এগিয়ে আসতে থাকায় দাম নাগালে রাখতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সে দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
ভারতের পেঁয়াজ এবং দেশের হালি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারে এখন পেঁয়াজের দাম এখন অনেকটাই কমেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগী অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো লাভ হবে। তারা এখন আগের চেয়ে চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবে।
