ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে পুরো ক্রীড়াবিশ্বের চোখ এখন নিউইয়র্কের দিকে। আর এরই মাঝে ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী মোগল মাইকেল রুবিনের আয়োজনে জেভিটস সেন্টারে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’ রূপ নিয়েছে বিশ্বখ্যাত তারকাদের এক মহা মিলনমেলায়। ইন্টারেক্টিভ প্রদর্শনী, দুর্লভ সব কালেকশন আর হেভিওয়েট তারকাদের প্যানেল আলোচনায় জমে উঠেছে এই উৎসব।
তবে উৎসবের সবচেয়ে বড় ধামাকাটি ঘটে গত শুক্রবার, যখন রবিবারের ফাইনালের মূল নায়করা একই মঞ্চে এসে হাজির হন। একদিকে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করতে মঞ্চে আসেন লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ এবং কোচ লিওনেল স্কালোনি।

আর অন্য প্রান্তে স্পেনের পক্ষে হাজির হন রদ্রি ও গুরু লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে, আলোচনার পারদ আরও তুঙ্গে ওঠে যখন এই পুরো সেশনের সঞ্চালক হিসেবে মাইক্রোফোন হাতে নেন টম ব্রেডি, নোভাক জোকোভিচ এবং কেভিন ডুরান্টের মতো ক্রীড়াজগতের জীবন্ত কিংবদন্তিরা।
মঞ্চে এনবিএ তারকা কেভিন ডুরান্টের প্রবেশের পর থেকেই হলের ভেতরের পরিবেশ হুট করে বেশ থমথমে হয়ে ওঠে। এই বাস্কেটবল মহাতারকা যখন মঞ্চে এসে তাঁর আসনের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি আর্জেন্টিনার পুরো প্রতিনিধি দলের ঠিক পেছন দিয়ে হেঁটে গেলেও তাদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। কোনো কুশল বিনিময় বা সৌজন্যতার বালাই ছিল না সেখানে।
অথচ এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় স্পেনের ক্ষেত্রে! টম ব্রেডির কাছ থেকে মাইক নিয়ে এবং রিও ফার্দিনান্দ ও জোকোভিচের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরই ডুরান্ট সরাসরি গিয়ে স্প্যানিশ তারকা রদ্রিকে জড়িয়ে ধরেন এবং কোচ দে লা ফুয়েন্তের সাথে বেশ উষ্ণ করমর্দন করেন। মেসি-বাহিনীকে এভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে উপেক্ষা বা ‘কোল্ড শোল্ডার’ দেওয়ার বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই ভক্তদের নজর কাড়ে।

যদিও সেশন চলাকালীন ডুরান্ট আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক দিবু মার্টিনেজকে সরাসরি একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতাটা আপনাদের দেশের জন্য কী অর্থ বহন করবে? দিবু মার্টিনেজও বেশ গুরুগম্ভীরভাবে এর উত্তর দিয়ে বলেন, এটি তাঁর করা অন্যতম ‘কঠিন’ প্রশ্ন। কারণ বিগত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো দল যা করতে পারেনি, আর্জেন্টিনা এখন ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে সেই টানা বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ার অপেক্ষায়।
ডুরান্টের এই প্রকাশ্য অবহেলার পর ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন তোলপাড় চলছে। একদল ভক্তের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার তদন্ত এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে চলা নানা গুঞ্জন ও বিতর্কের কারণেই হয়তো ডুরান্ট সমালোচকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যারা মনে করেন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত ‘সুবিধা’ দেয়া হচ্ছে।

আবার অনেকের মতে, এটি হয়তো স্রেফ ডুরান্টের ব্যক্তিগত পছন্দ, কিংবা লাইভ ব্রডকাস্টের সময়ের টানাটানির কারণে তিনি দ্রুত নিজের প্রশ্নের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে এমনটা করে ফেলেছেন।
ডুরান্ট কি সচেতনভাবেই স্পেনের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন, নাকি নিজের কাজের দিকে মনোযোগী ছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। তবে এই আর্জেন্টাইন দলের জন্য বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তাই নিজেদের জার্সিতে চতুর্থ তারকা যোগ করার মিশনে নামা মেসি বাহিনীর মনোযোগ ফাইনালের কিক-অফের আগে ডুরান্টের একটা করমর্দন না করার ঘটনায় যে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত হবে না, তা বলাই বাহুল্য!
তথ্যসূত্র: মারকা
