রাজধানীতে ফুলের আরও একটি পাইকারি বাজার পেলেন ফুল ব্যবসায়ীরা। গাবতলীতে ফুলের এ বাজার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী জানালেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দেশী ফুলের চাহিদা বাড়ানো যায়, সেটাই হবে সার্থকতা।
সেই সাথে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের বাজারকে তিন হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন মন্ত্রী।
ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ বেধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশে সারা বছরই থাকে ফুলের চাহিদা। তবে পয়লা বৈশাখ, ভালোবাসা দিবস, পয়লা ফাল্গুন, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে ফুলের চাহিদা অনেক বেশি।
দিনকে দিন ফুলে চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এর উৎপাদন। বর্তমানে দেশের ২৪টি জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে। যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজের সুযোগ হয়েছে ১৫ লাখ মানুষের।
সারাদেশের ফুল চাষিদের কল্যাণে রাজধানীর গাবতলীতে স্থাপন হলো আরেকটি পাইকারি ফুলের বাজার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যে সকল জেলায় ফুল চাষ বেশি হয় সেখানে যদি ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা যায় তাহলে দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের বাজারকে তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম বলেন, ফুলের বাজারে একটা পোস্ট সার্ভিস লস হয়। সেটাকে যদি আমরা বন্ধ করতে পারি তাহলে অনায়াসেই দেড় হাজার কোটির ফুলের বাজারকে তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা যাবে।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ফুল বাজারে দেশি ফুলের চাহিদা বাড়ানো গেলে সেটাই হবে বড় সার্থকতা।
তিনি বলেন, এ দেশ থেকে আমরা অনেক ফুল রপ্তানি করতে পারি। ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বাজার আন্তর্জাতিক ফুলের বাজার। এই বিপুল অঙ্ক থেকে যদি আমরা ৫০০ মিলিয়ন ডলারও আনতে পারি, তাহলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।
প্রাচীন কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করতে পারলে, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষিখাতে জড়িতদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
