অস্বাভাবিক চালের বাজার তদারকি করে নানা অসংগতি পেলেও কাউকে জরিমানা করেনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম। অভিযানের খবর পেয়েই সটকে পড়েন অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী।
যদিও তদারকি টিমের কর্মকর্তারা বললেন, খাদ্য নিয়ে অনিয়ম আর চলবে না। তবে ভোক্তারা বলছেন, গোড়ায় অভিযান না করে, আগা কেটে বাজার নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই সম্ভব না।
অস্বাভাবিক চাল বাজারকে স্বাভাবিক করতে শনিবার রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট ও বাড্ডায় অভিযান পরিচালনা করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে দেখা যায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীরই চাল ক্রয়ের রশিদ নেই। আবার রশিদ থাকলেও তার সাথে মিল পাওয়া যায়নি মূল্যতালিকায় লেখা দামের।
মোবাইল টিম পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বললেন, খাদ্য নিয়ে আর অনিয়মের সুযোগ দেবে না তারা। যদিও অভিযানের খবরেই আগেই সটকে পড়েন অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জয়নাল আবদীন বলেন, যেসব দোকানি সটকে পড়েছে তাদের ওখানে আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের আরেক উচসচিব মর্জিনা আক্তার বলেন, খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটা জায়গায় অভিযান চলছে। যেখানে অনিয়ম দেখা যাবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তারা অবশ্য বলছেন, উৎসস্থলে অভিযান না করা পর্যন্ত কোনভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আমন মৌসুমের নতুন ধান বাজারে আসার পরপরই এভাবে দাম বেড়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আড়ৎদাররা বলছেন, ধানের দাম বাড়তি বলেই সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন মৌসুমেই চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বৃদ্ধি পাওয়াটা অযৌক্তিক।
বাজারে মিনিকেট ও বিআর-২৮ কেজিতে বেড়েছে ছয় টাকা। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬০ টাকা থেকে ৭৪ টাকা এবং বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এসব বাজারে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে নাজিরশাইল ৬২ থেকে ৮৮ ও গুটি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজি। পোলাওয়ের চালের দাম বেড়েছে আরও বেশি, ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে এক হাজার টাকা।
দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতেও চালের দাম বাড়তি। বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করার তদারকিতে মাঠে নেমেছে খাদ্য অধিদপ্তর। চারটি টিম করে বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া ওএসএম কার্যক্রমও তদারক করা হচ্ছে।
এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে দাম বাড়ানোর ওপর আমাদের কোনো হাত নেই। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী, মিলমালিক, বড় বড় কোম্পানি তারা সুযোগ নিচ্ছে। সেজন্যই বস্তা প্রতি চালের দাম তিন-চারশ’ টাকা বেড়ে গেছে।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ আড়ৎদাররা বলছেন এ বছর বেশি দামে ধান কিনেছেন মিল মালিকরা। কৃষক ধানের ভালো দাম পেয়েছেন। যে কারণে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সরু চালের দাম ৫ দশমিক ৩৮, মাঝারি চাল প্রায় ৩ এবং মোট চালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
গত বুধবার খাদ্যমন্ত্রী সাধরন চন্দ্র মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চারদিনের মধ্যে চালের দাম না কমলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে রোববার।
কেন বাড়ছে চালের দাম?
চালের বাজার তদারকিতে মাঠে নামছে চার টিম