ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, উত্তরে প্রায় ১৩ লাখ পশু কোরবানি হয়। ছয় ঘণ্টার মধ্যে এই বর্জ্য পরিষ্কার করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তবুও রাত আটটার মধ্যে আজকের দিনের বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে।
সোমবার ঈদের দিন দুপুর সোয়া দুইটার দিকে রাজধানীর মিরপুরে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় মেয়র জানান, উত্তর সিটিতে ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছে। পশু কোরবানির জন্য কিছু নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রণোদনাও দেওয়া হবে।
বর্জ্য পরিষ্কারে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে মেয়র জানান, ৫০০ বেশি বর্জ্যবাহী গাড়ি নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।
মহানগরবাসীকে যেখানে সেখানে পশু কোরবানি না করে নির্দিষ্ট জায়গায় করার আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, বর্জ্য কোথাও যদি পরিষ্কার না হয় তাহলে সিটি করপোরেশনকে জানান।
পাশপাশি মহানগরীর সবাইকে মঙ্গলবারের মধ্যে পশু কোরবানি দেওয়ার কথা বলেন উত্তরের মেয়র।
একই সঙ্গে এই ছুটিতে যেন ডেঙ্গু না বাড়ে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।

এদিকে যেখানে সেখানে পশু কোরবানি না করে এক স্থানে ৫০০ পশু কোরবানির আয়োজন করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে ডিএনসিসির সেই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি এলাকাবাসী।
ডিএনসিসির আওতাধীন তিন নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর প্যারিস রোড সংলগ্ন শেখ ফজলুল হক মনি মাঠে এই আয়োজন করা হয়। এক স্থানে ৫০০ গরু কোরবানির এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল নগর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর। প্যারিস রোড ছাড়া সাত নম্বর ওয়ার্ডেও এইবার প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এক স্থানে একাধিক পশু কোরবানির আয়োজন করা হয়। রাখা হয় বর্জ্য পরিষ্কারের যন্ত্রপাতিসহ, শরবত পান ও প্রণোদনার ব্যবস্থা। তবে সরেজমিন, এতসব আয়োজনের পরেও এলাকাবাসীর সারা মেলেনি।
এর আগে শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনকালে মেয়র আতিকুল ছয় ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করার জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হটলাইন নম্বর রয়েছে। যে কেউ যোগাযোগ করতে পারবে।
আর দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, গত বছরের ন্যায় এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সুতরাং ঈদের দিন যে বর্জ্য সৃষ্টি হবে, সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারিত হবে।
দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ৯ হাজার ৪৯৭ জন কর্মী থাকবে এবং সব মিলিয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে ৫৬০টি যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত থাকবে বলেও জানায় দক্ষিণ সিটি।
বৃষ্টিতে ডুবলো সিলেট, ঈদ আনন্দ ম্লান