রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকাগুলোতে চলছে দ্বিতীয় দিনের কোরবানি ও বর্জ্য অপসারণ। ঈদের প্রথম দিন সকাল সকালই বর্জ্য সরিয়ে নিলেও দ্বিতীয় দিনে কিছুটা গতি কমেছে দক্ষিণ সিটির এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। তবে মাঠে নেমেছেন নাগরিকরাও।
সোমবার রাতেই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছিল, প্রথমদিনের কোরবানির এবং ১১টির মধ্যে ছয়টি হাটের আবর্জনা মিলিয়ে মোট সরানো শেষ প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টনের মত বর্জ্য। বাকি হাটগুলোর বর্জ্য অপসারণের কাজও চলে দ্বিতীয় দিনে।

হুইল লোডার ট্রাকের মেশিন অপারেটর এনামুল হক বলেন, মেয়রের নির্দেশ কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। ধোলাইখাল এলাকায় বাসাবাড়ির কোরবানি আর হাট মিলিয়ে বর্জ্যের পরিমাণও নেহায়েত কম না। তাই সেই বর্জ্য অপসারণের ট্রাকে চড়িয়ে কাজ করতে হয়েছে ছেলেকে নিয়ে। ঈদের খানিকটা উদযাপন হয়েছে ট্রাকেই।
কোরবানির পরপরই হাটের আবর্জনা না সরালে ঢাকায় লোক বাড়ার পর এসব ব্যস্ত রাস্তার অবস্থা হবে অসহনীয়। গন্ধ আর রোগজীবাণুর সংক্রমণ তো আছেই। তাই বহু টাকায় কেনা এসব উন্নত লোডার ট্রাক, ডাম্প ট্রাক এবং শ্রমিকের মিলিত পরিশ্রমে দ্রুত এগিয়ে চলেছে হাট পরিষ্কারের কাজ।
এদিকে সোমবারের কোরবানির বর্জ্য সেদিনই রাত সোয়া ১২টার মধ্যে সরানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকাগুলোতে নতুনভাবে চলছে দ্বিতীয়দিনের কোরবানি। তৈরি হচ্ছে নতুন বর্জ্য। তবে ঈদের দিন কোরবানি হওয়ামাত্র বর্জ্য সরানো হলেও দ্বিতীয় দিনের কাজ চলেছে কিছুটা ধীরগতিতে। তবে ততটা অসন্তুষ্ট নয় জনগণ। অনেকে নিজেরাই নেমে পড়েছেন মাঠে।

এদিন দক্ষিণে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির আহবানে কিছুটা সাড়া মিলেছে হাতিরপুলে। এবছর দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে ২৫ লাখের বেশি।
প্রশাসনের সদিচ্ছা, শক্ত অবস্থান এবং জনগণের সচেতনতা- তিনটি এক সঙ্গে মিললো কী হয় তার প্রমাণ মিলেছে কোরবানির দুই দিন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, সারা বছর এরকম অভিযান চললে বা এমন কার্যক্রম চললে এই তীলোত্তমা নগরী হতো আরও সুন্দর।
