জলবায়ু অর্থায়নের নামে ঋণের ফাঁদে অনুন্নত দেশগুলো

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:০২ পিএম

উন্নত দেশগুলো কৌশলে জলবায়ু অর্থায়নের নামে অনুন্নত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্ক আয়োজিত পোস্ট কপ নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো অনুদান চায়। কিন্তু কৌশলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণের জালে ফেলছে। দিচ্ছেনা লস অ্যান্ড ড্যামেজের অর্থও। 

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিস-বাংলাদেশ এর পরিচালক অ্যাড. হাফিজ খান বলেন, উন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ না কমিয়ে কার্বন বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে। তারা অর্থ দেবে না এটাই বাস্তবতা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ আদায় করতে পারছে না, কারণ বাংলাদেশের দক্ষতা নেই। তারপরও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের পক্ষে লড়াই করা এই নেগোশিয়েটর। 

চেঞ্জ ইনেশিয়েটিভ এর চিফ এক্সিকিউটিভ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এম জাকির হোসাইন বলেন, অনুন্নত ২০টি দেশের ওপর গবেষণায় করে দেখা গেছে ১৮ দেশই জলবায়ু অর্থায়নের নামে ঋণের ফাঁদে আটকা পড়ছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যেভাবে জলবায়ু অর্থায়নে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশও ঋণের ফাঁদে পড়বে। অর্থাৎ একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণের ফাঁদে পড়ে আরও ঝুঁকি বাড়ছে অনুন্নত দেশগুলোর। 

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউশ অব প্ল্যানার্স সভাপতি অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে পরিবেশ দূষণ করছে, কার্বন নি:সরণ করছে তা কমানোর কী কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে? সেটি আমর দেখতে পারছি না। কিম্বা বাংলাদেশ সরকার এটি নিয়ে তেমন কোনো কথাও বলছে না। নদী ভাঙনে যারা উদ্বাস্তু হচ্ছে তা নিয়েও কোনো সঠিক পরিকল্পনা নেই বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। 

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউশন অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নাগরিকদের একটি পজিশন পেপার তৈরি করতে হবে। শুধু তাই নয়, গণমাধ্যমের পজিশন পেপার, যবদের পজিশন পেপার কী হবে তা নিয়েও কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। 

এসব করতে না পারলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের কাছে যে ওয়াদা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে মনে করে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা এই বিশেষজ্ঞ। 

ওয়াটার কিপার অ্যালাইন্সের মেম্বার বোর্ড অব ডিরেক্টর শরীফ জামিল বলেন, কার্বন বাণিজ্যের নামে উন্নত বিশ্ব অনুন্নত দেশগুলোকে কৌশলে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা নেট জিরোর কথা বলে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়েছে চলছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের যে সমস্যা তা গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত করতে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সঙ্কটকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। 

গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্কের কনভেনর হাবিব রহমান বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এনজিও, গবেষক, তরুণদের এক প্লাটফর্মে থেকে দেন-দরবার চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।  

পোস্ট কপে অংশ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মী আশেকিন প্রিন্স বলেন, কপে শুধু অংশ নিলেই হবে না। এনজিও, পরিবেশ কর্মী, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য দেশের নেগশিয়েটরদের সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। 

গ্লোবাল ক্লাইমেট মিডিয়া নেটওয়ার্কের সদস্য শামীম বলেন, জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেই বিশ্ব দরবারে সঠিক তথ্য দেয়া হচ্ছে না। এর মানে- হয় তাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই, নয় তো কপে যাওয়ার শতভাগ প্রস্তুতি নেই। 

ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, তরুণ শুধু জলবায়ু নিয়ে জোড়ালোভাবে কথা বললেই হবে না। সঙ্কট মোকাবেলায় নতুন নতুন আবিষ্কারের দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া গণমাধ্যমে জলবায়ু প্রতিবেদনগুলোকে আরও গুরুত্ব সহকারে প্রচার করার বিষয়ে নজর দেয়ার তাগিদ দেন সাংবাদিকরা।  

পোস্ট কপে অংশ নেন যুব জলবায়ু কর্মীরাও। তারা বলেন, তরুণদের মধ্য থেকে যারা কপে অংশ নিচ্ছে তারা যাওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে বা রিমোট এলাকায় কাজ করে জলবায়ু নিয়ে তাদের সাথে কথা বলছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যেসব এলাকায় তরুণরা মাঠে কাজ করে তাদের কথা শোনারও দাবি জানান তারা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতি বা সঙ্কট দেখা দিয়েছে সেই তথ্য আদান- প্রদান করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায় সেদিকে নজর দিতে বলেন কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করা তাহরিম আরিবা। 

তবে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার অভাবে জলবায়ু ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারছে না অনুন্নত দেশগুলো। তাই ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই ৩০তম জলবায়ু সম্মেলনে কীভাবে এই সঙ্কটগুলো মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার বলে মনে করেন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বিশেষজ্ঞরা।

একাত্তর/এসি
জীবনযাত্রার চড়া ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ফ্রান্স। দেশজুড়ে শুরু হওয়া আন্দোলন আকস্মিক সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে ব্যাপক...
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবকল্যাণ ও মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।...
ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সাভারের আমিনবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে, এই চারা রোপণের মধ্য দিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর