ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সাভারের আমিনবাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে, এই চারা রোপণের মধ্য দিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে পরিবেশবান্ধব সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির সুসংগঠিত উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি একই দিনে সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত এক জমকালো কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়।
সম্মানজনক এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেনানিবাসে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অস্বীকার করার উপায় নেই, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সবসময় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, আমাদের মহান স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় জন্ম।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিবেশ অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই সাথে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের প্রথাগত ধরন এবং রণকৌশল।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কেবল স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশসীমার নিরাপত্তাই শেষ কথা নয়; বর্তমান যুগে সাইবার স্পেস, মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। পরিবর্তিত এই বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
