সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ট্রাস্টের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাকরাইল, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশস্ত ফুটপাত কেটে সংকুচিত করে ফেলেছে। ফলে কোথাও ফুটপাত এতটাই ছোট হয়ে গেছে যে পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছেন না, আবার কিছু জায়গায় ফুটপাত পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।
সিএলপিএর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। একদিকে যেখানে মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব, অন্যদিকে হাঁটার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ঢাকার সড়কগুলো ক্রমশ ব্যক্তিগত গাড়িকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।
তথ্য অনুসারে, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রায় ৭৩ শতাংশই পথচারী। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রেটার ঢাকায় দৈনিক প্রায় ৩.৮৭ কোটি যাত্রার মধ্যে ৩৮.৩ শতাংশ (প্রায় ১.৪৭ কোটি) হাঁটার মাধ্যমে হয়। ২০০৯ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৯-২০ শতাংশ, যা এখন দ্বিগুণের বেশি—মূলত যানজট ও গণপরিবহনের অপর্যাপ্ততার কারণে।
সিএলপিএ বিভিন্ন জাতীয় নীতি ও আইনের (যেমন: সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান, প্রতিবন্ধী অধিকার আইন-২০১৩) উল্লেখ করে বলেছে, পথচারীদের নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তবে তা উপেক্ষিত। এছাড়া, অনেক ফুটপাত হুইলচেয়ার-বান্ধব নয়, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
সংগঠনটি স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-কে এই ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে পথচারী-বান্ধব নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে হাঁটা একটি অপরিহার্য যাতায়াত মাধ্যম—এর নিরাপত্তা না থাকলে দুর্ঘটনা ও যানজট আরও বাড়বে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, প্রশস্তকরণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই এর একমাত্র সমাধান।
