ভারত থেকে আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় ও হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণসহ নাশকতামূলক কাজ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ককটেল হামলার ঘটনায় এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোল্লা মো. শাহীন।
ডিবি জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা শহরজুড়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তারা এই নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন নামের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রায়হান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ছয় নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি ককটেল ও নাশকতায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবি কর্মকর্তা মোল্লা মো. শাহীন জানান, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে দেশে অবস্থানরত কর্মীদের সহিংসতা চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থও সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও অবস্থান সনাক্ত করা গেছে উল্লেখ করে গোয়েন্দারা জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।
