বরগুনায় ভৌতিক প্রকল্প দেখিয়ে লুট করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রকল্প বরাদ্দের টাকা। এসব ভৌতিক প্রকল্পের বেশিরভাগই দেখানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক উন্নয়ন খাতে। অথচ প্রকল্পের দায়িত্বরতরাই জানেন না প্রকল্প সম্পর্কে।
এ নিয়ে একাত্তর টেলিভিশন অনুসন্ধানে নামার পর সটকে পড়েন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। আর ভৌতিক প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ কর্মসূচীর ২য় কিস্তিতে আমতলী সরকারি কলেজের মাঠ সংস্কার করতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু। কাজ শেষ দেখিয়ে চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা বিল তুলে নেয় একটি চক্র।
নিয়ম অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ সিপিসি হয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হোসাইন আহম্মেদ জানিয়েছেন, চলতি অর্থ বছরে কলেজ মাঠে কোনো কাজ করানো হয়নি, এমনকি ভৌতিক এই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

একইভাবে চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা নুরুল হক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংস্কারে সংসদ সদস্য বরাদ্দ দেন দুই লাখ টাকা। জুন মাসেই কাজ শেষ দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে পুরো টাকা। কিন্তু নুরুল হক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার ঠাকুর জানান, কাজ হয়নি এক টাকারও।
আমতলী এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও আসবাবপত্র সংস্কারে ব্যায় হয়েছে দুই লাখ সাত হাজার টাকা আর ঐতিহ্যবাহী নুরজাহান ক্লাব সংস্কারে ব্যায় হয়েছে আরও তিন লাখ টাকা। অথচ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙা আসবাবপত্র পড়ে আছে আগের মতোই। নুরজাহান ক্লাবের অবস্থা জরাজীর্ন ভৌতিক বাড়ির মতোই।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের হারুন ডাক্তারের বাড়ি থেকে আজিজ গাজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারে দুই লাখ টাকা, চাওড়ার আতাহার বেপারীর বাড়ি থেকে দুলাল গাজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য তিন লাখ এবং হলদিয়া থেকে তুজির হাট ও তক্তাবুনিয়া মাদ্রাসা থেকে শীল বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে আরও তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। স্থানীয়রা বলছেন, এসব কাজের ছিটেফোঁটাও হয়নি।
ভুতুড়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগটা কাদের, কারাই বা ১৪টি প্রকল্পে ৩৯ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়ে গেলো, এমন শত প্রশ্নের উত্তর মিলবে শুধু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মসমর্পণ
একাত্তর টেলিভিশন অনুসন্ধানে নামার পর থেকেই সটকে পড়েন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। একাধিকবার অফিসে গিয়েও তার হদিস পাওয়া যায়নি।
ভৌতিক এসব প্রকল্পে কেনই বা বরাদ্দ দেওয়া হলো জানতে চাইলে সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু বলেন, প্রত্যেকটি প্রকল্পই জনগনের সুবিধার জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ না করিয়ে বিল তুলে নেওয়ার জন্য দায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানালেন, প্রকল্পের বরাদ্দের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
একাত্তর/আরবিএস
