পূর্বশত্রুতার জের ধরে মাদারীপুরের কালকিনিতে হামলায় এক পা কেটে নেয়া মামলার বাদির চাচা মো. লিয়াকত আলী খানকে (৫৮) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে কালকিনির পূর্ব এনায়েতনগর এলাকার কালাই সরদারের চর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত লিয়াকত আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী, ভূক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর এলাকার কালাই সরদারের চর গ্রামে ভুলু খানের ছেলে মিরাজ খানের সম্প্রতি বাম পা কেটে নিয়ে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী আপাং কাজীর লোকজন।
এ ঘটনায় মিরাজ খানের ভাই কালাম খান বাদি হয়ে কালকিনি থানায় আপাং কাজীসহ ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
পরে থানা পুলিশ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পা কাটা মামলার বাদির চাচা একই এলাকার তিতাই খানের ছেলে লিয়াকত খানের দুই পা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে দেয় আসামিরা।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে হাতুড়িপেটা করে হত্যা
এ বিষয়ে পা কাটা মামলার বাদি ও আহত লিয়াকত খানের ভাতিজা কালাম খান বলেন, আমার ভাই মিরাজ খানের পা কেটে নেয় আপাং কাজীর লোকজন। তাই আমি আপাং কাজীসহ ৩৫ জনকে আসামি করে কালকিনি থানায় একটি মামলা করি এবং আদালত আসামিদের নামে পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার চাচা লিয়াকত খানের দুই পা ভেঙ্গে দিয়েছে আসামিরা। আমরা এ ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করি।
অভিযোগের বিষয়ে আপাং কাজী সাংবাদিকদের বলেন, পা ভাঙ্গার বিষয় আমি কিছু জানি না। কে বা কারা তার পায়ে আঘাত করেছে, সেটা আমার জানারও কথা না। এখন তারা পূর্ব শত্রুতার কারণে আমাদের জড়িয়ে মিথ্যে ও বানোয়াট কথা বলছে।
কালকিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন মিয়া বলেন, আমরা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গেলে, তা টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। শুনেছি পরে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সামনে কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/টিএ
