চট্রগ্রামে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় প্রাণ হারানো পটুয়াখালীর দৌড়বিদ গহর জামিল টুকুর জানাজায় মানুষের ঢল দেখা গেছে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নেয়।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে টুকুকে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানাজা শেষে রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক এবং পটুয়াখালী প্রেসক্লাবসহ নানা সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। স্কুল সহপাঠীসহ স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নার রোল পরে এলাকায়।
মৃত গহর জামিল টুকু তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন সুলতান মিয়ার ছেলে ও পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেনের ছোট ভাই ছিলেন।
পরিবারে স্ত্রী রোকসানা শারমিন রুমা ও অপসরা (১৫), রুপন্তি (১২) এবং এ্যাথেনা (৫) বছর বয়সী তিন কন্যা রয়েছে তার।
গহর জামিলের ৯৩ সালে এসএসসি ব্যাচের সহপাঠীরা জানান, প্রথমে বিমানবাহিনী চাকরি হয় টুকুর। পরে প্রাইম ব্যাংকসহ বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন তিনি। ছাত্র জীবনে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস ছিলো। টুকু ‘টিম পটুয়াখালী’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের যে কোন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন তিনি। ৪৪ বছর বয়সে টুকু অন্তত দুই ডজন পুরস্কার লাভ করেছেন।
টুকুর মৃত্যুর খবর শুনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা পটুয়াখালী পৌঁছে জানাজায় অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি টুকুর চাচা কামাল হোসেন রফিক মারা যায়। কক্সবাজারের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে শুক্রবার সকালে ‘সেইলর চট্টগ্রাম সিটি হাফ ম্যারাথন’ -শিরোনামে একটি দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে টিম চট্টগ্রাম নামে একটি সংগঠন। ২১ কিলোমিটারের ওই দৌড় প্রতিযোগিতা ৭শ’ প্রতিযোগীর মধ্যে অংশ নেন পটুয়াখালীর গহর জামিল টুকু।
আরও পড়ুন: কারাগার থেকে ফাঁসির আসামির নির্বাচনী প্রচারণা!
দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করে ভালভাবেই সম্পন্ন করে পটুয়াখালীর প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ফিনিংশি লাইনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন টুকু। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় চট্রগ্রাম নেভী হাসপাতালে ও পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একাত্তর/আরএ
