বহুল আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল সোমবার (৩১ জানুয়ারি)। কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল রায় ঘোষণা করবেন। রায়ে প্রধান দুই আসামি টেকনাফ থানা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সিনহার পরিবার।
নিহত সিনহার বোন শারমিন বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে বলে আশা করি। অপরাধী যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না- এই রায়ের মাধ্যমে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।
বাদিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলায় আট দফায় ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা ও জেরা করা হয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
তিনি বলেন, সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই আমরা আদালতে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি। পুলিশি আবরণে, আইনি আবরণে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা যাতে আর না ঘটে, যেন আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা থাকে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন খান বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে বাদিপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই এই মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত হোক।
আরও পড়ুন: ইসি গঠন আইনের গেজেট প্রকাশ করলো সরকার
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শাপলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড়ো বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলা তদন্ত করেন র্যাব।
পরে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামি কারাগারে আছেন।
একাত্তর/এসি
