রাত পোহালেই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা। পূজার কয়েকদিন আগে থেকেই বিভিন্ন হাট-বাজারে সরস্বতী প্রতিমা বিক্রি হয়ে থাকলেও এবছর বিক্রি কম হচ্ছে। আর তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
হিন্দুধর্মালম্বীরা মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা করে থাকেন। প্রতিবছর এই তিথিতে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়িতে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালাভের আশায় সরস্বতীকে নানাভাবে আরাধনা করেন ও পুস্পাঞ্জলি দিয়ে থাকেন।
পূজার আগেরদিন প্রতিমা স্থাপনসহ পূজার আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। কিন্ত হাটে এখনো শতশত সরস্বতী প্রতিমা অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে। পূজার ফুল-বেলপাতা, খ্যাগসহ নানা উপকরণও বিক্রি কম হচ্ছে। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরস্বতী প্রতিমা বিক্রি কম হচ্ছে বলে ধারণা প্রতিমা শিল্পীদের।
শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে সরস্বতী প্রতিমা বিক্রির সবচেয়ে বড় হাট বণিকপট্টিতে গিয়ে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে বেশ কয়েকজন প্রতিমা শিল্পী বিভিন্ন আকারের শতশত সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে বসে আছে। তবে তেমন ক্রেতা নেই। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা প্রতিমা দেখছেন।
ছোট প্রতিমা কিছু বিক্রি হলেও বড় প্রতিমার ক্রেতা নেই। কোন কোন শিল্পির বড় আকারের প্রতিমা সব ধরা ছিল বেলা ১১টা পর্যন্ত। দেড়শত টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা মূল্যের প্রতিমা দেখা গেছে হাটে।
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা মিলন পাল জানান, তারা বংশপরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে বিক্রি করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে তারা ছোট-বড় ৩০০ থেকে ৩৫০ প্রতিমা এই হাটে বিক্রি করেছে। শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মাত্র ৫০ খানা প্রতিমা বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা নেই বলে প্রতিমা বিক্রি হচ্ছেনা। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর তাই এখন খুব বেশি প্রতিমা বিক্রির সম্ভবনা নেই। প্রতিমা বিক্রি না হলে তাদের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
আরও পড়ুন: টিকটক করতে ডেকে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ
বাগেরহাটের মির্জাপুর গ্রামের কৃষ্ণ পদ পাল জানান, সে এবছর হাটে বড় সাইজের সাত খানা প্রতিমা এনেছে। প্রতিটি প্রতিমার মূল্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার একটি প্রতিমাও বিক্রি হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি হবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
একই গ্রামের প্রদীপ পাল জানান, এবছর হাটে বড় সাইজের ১০ খানা প্রতিমা এসেছে। এ পর্যন্ত মাত্র দুটো প্রতিমা বিক্রি হয়েছে। রংসহ প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেই হিসেবে প্রতিমার দাম বাড়েনি।
করোনার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছেনা বলে তারা জানান। প্রতিমার এই সব শিল্পিরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিমার পাশে ফুল বিক্রেতা কৃষ্ণকান্ত পাইক ও মনতোষ সরকার জানান, পূজার প্রদান উপকরণ ফুল-বেলপাতা এবছর কম বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমার ক্রেতা কম থাকায় তাদের ফুল-বেলপাতা কম বিক্রি হচ্ছে।
স্বপন দাস, আরতী বিশ্বাস,কমল দাসসহ কয়েকজন প্রতিমা ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতিবছর বাসায় তারা সরস্বতী পূজা করে থাকে। ছোটসাইজের প্রতিমা তাদের চাহিদা। এবছর ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ৩০০ থেকে সাড়ে সাড়ে ৩০০ টাকা দিয়ে তারা প্রতিমা ক্রয় করেছে।
একাত্তর/টিএ
