ভোগাই-কংস নদীর খনন শেষ হলে বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ ও নেত্রকোণা সদরে কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারা বছর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে বলে মত তাদের। এলাকার কৃষকরা বলছেন, নদী থেকে সেচ দিতে পারলে ফসল উৎপাদনে অর্ধেক খরচ কমবে।
বারহাট্টা, মহনগঞ্জ, নেত্রকোনা সদর। তিন উপজেলার কৃষি সেচ ব্যবস্থা অনেকটাই নির্ভর ছিলো কংস-ভোগাই নদীর উপর।
উজানের পলি আর দখলে নদীটিতে পানি প্রবাহ না থাকায় ভূগর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থার উপরই নির্ভর করতে হয়।
ভূগর্ভস্থের পানির উপর চাপ কমাতে কংস-ভোগাই নৌপথটি চালু করা উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডাব্লিউটএ। এরই মধ্যে ২১০ কিলোমিটার নদীর প্রায় ৮০ ভাগ খনন কাজ শেষ হয়েছে।

এলাকার কৃষকরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে ঠিক মতো ডিপ মেশিনেও সেচের পানি মেলে না। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় যুক্ত হয়েছে আর্সেনিক।
ডিপ সেচের খরচও বেশি। কৃষকরা বলছেন, কংস-ভোগাই নদীতে পানি থাকলে সেচ সংকট কমবে।
এলাকাবাসী বলছেন, নেত্রকোনা জেলার বেশিভাগ মাছের চাহিদা মিটতো এই নদী থেকে। নদীর পানি প্রবাহ ফিরলে আবারও সেই দিন ফিরে আসবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সোমেশ্বর থেকে সুরমার সাথে কংস-ভোগাইয়ের প্রবাহ যুক্ত করা হবে। মাছের বিচরণ, সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে সারাবছরই খনন কাজ চালু রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: দেশে ফিরলেন ২৮ নাবিক, আসেনি হাদিসের মরদেহ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনন কাজ শেষ হলে নদীর জীববৈচিত্র্য ফিরবে। তবে উজানের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে আন্ত:সীমান্ত নদী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ভোগাই-কংস নদীটি খনন করতে খরচ হচ্ছে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা।
