বন্ধ ঘোষণার ২১ মাস পরেও বকেয়া পাওনা বুঝে পাননি আমিন জুট মিলসহ সারাদেশে একযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৬টি পাটকলের হাজারো শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে মানবেতর জীবন পার করছেন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
আসন্ন রমজানে এ সমস্যার সমাধান না হলে অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাটকল শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
আমিন জুটমিলে দীর্ঘ সময় চাকরি করে অবসরে যাওয়া অনেকেই মারা গেছেন। তাই পাওনা আদায়ে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে অনেকেই নাম-ঠিকানা ভুলের কারণে বকেয়া পাওনা না পেয়ে অর্থকষ্টে আছেন।
এক শ্রমিক জানান, তিন মাসের মধ্যে পাওয়া টাকা দিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও সে টাকা বুঝে পাননি তারা।
আরেক শ্রমিক জানান, নানা অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ এক হাজার ২৩২ শ্রমিকের বেতন আটকে রেখেছে। এর মধ্যে ১৫৪ শ্রমিকের টাকা দেয়া হয়নি আমিন কলোনিতে ঘর আছে বলে।
যদিও তাদের দাবি, কাঁচা ঘরবাড়ি করে ভাড়া দিয়ে থাকার জন্য সরকার অনুমতি দিয়েছিল তাদের। তবে সেখানে কোনো সীমানা দেয়াল না থাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এটির ফয়সালা না হওয়ায় শ্রমিকদের পাওনা টাকা দেয়া স্থগিত রয়েছে।
সিবিএর নেতারা জানান, অবিলম্বে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা শোধ না করলে আমরণ অনশনের মত কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।
খুলনা পাটকল শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিন বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো উপায় না পেলে অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২ জুলাই আমিন জুটমিলসহ সারাদেশে ২৬ টি পাটকল একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তাতে বেকার হয়ে পড়েন হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
একাত্তর/এসজে
