বড় ভাই আলাউদ্দিন সেজে ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ-র্যাবকে বিভিন্ন সময় বোকাও বানিয়েছেন রফিকুল। গ্রেপ্তার করতে গেলেই নিজেকে আলাউদ্দিন হিসেবে জোর দাবি করেন আর তার পক্ষে জোর অবস্থান নেন তার মা।
অবশেষে বারকয়েক মা-ছেলের ধোঁকায় বোকা হয়ে ফেরার পর বুধবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর এলাকা থেকে সেই রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫ সদস্যরা।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার র্যাব-১৫ উপঅধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মেহেদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম রামু উপজেলার চাকমারকুলের পশ্চিম সমুদ্রপাড়ার মৃত মো. ইলিয়াছের ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল ও রফিক নামে দুইজনকে ট্রলারের মাধ্যমে জাহাজে তুলে দেয় মানবপাচারকারীরা। কয়েকদিন পর জাহাজটি থাইল্যান্ড উপকূলে তাদের নামিয়ে দেয়। অতঃপর সেখানকার দালালেরা তাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে স্থানীয় আলাউদ্দিনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। পরবর্তীতে তাদের মালয়েশিয়ার দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়া পুলিশ অবৈধ অভিবাসী হিসেবে নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। এক বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে নুরুল ইসলাম দেশে ফিরে আসে।
দেশে ফিরে ২০১৮ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে আলাউদ্দিনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেন নুরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর উচ্চ আদালতের একটি দ্বৈত বেঞ্চে আলাউদ্দিনের বদলে তার ছোট ভাই রফিকুলকে দাঁড় করানো হয়। আদালত ছোট ভাই রফিকুলকে, আলাউদ্দিন মনে করে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
এই ঘটনা জানাজানি হলে কক্সবাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তাদের পরিবারের সবাই আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, এছাড়াও ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে ওই মামলার বাদী নুরুল ইসলাম ও রফিককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে রফিকের চোখ-মুখে জখম হয়।
হামলার ঘটনায় আলাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রফিক একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও রফিকুল আত্মগোপনে থাকে।
মেজর মঞ্জুর বলেন, উক্ত ঘটনার পর থেকে আলাউদ্দিনের ছোটভাই রফিকুলকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে র্যাব জানতে পারে যে, রফিকুল মহেশখালী থানাধীন শাপলাপুর এলাকায় আত্মগোপনে আছে। পড়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ উপ অধিনায়ক বলেন, রফিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিলো সেই মানব পাচার মামলায়। এছাড়াও সবার সঙ্গে প্রতারণা করার বিষয়ে আলাদা কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করছে র্যাব।
একাত্তর/জো
