রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের সীতাঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে গেছে দুইজন পর্যটক।
কাপ্তাই নৌবাহিনীর ডুবুরী দল দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে লোকাস বৈদ্য নামে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করলেও অপূর্ব সাহা নামে অপরজনকে উদ্ধারে তৎপরতা এখনও চলছে।
বুধবার (১১ মে) বিকেলে ছয় পর্যটক সীতাঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সবাই তলিয়ে যায়। এদের মধ্যে তিনজন কোনোরকমে পাড়ে উঠতে পারলেও হারিয়ে যান তিনজন।
পাড়ে উঠতে পারা তিনজন জানান, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা থেকে কাপ্তাইয়ে বেড়াতে এসে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নামেন তারা ছয় বন্ধু মিলে। পানির গভীরতা অনুমানের চেয়েও বেশি হওয়ায় তারা সবাই পানিতে তলিয়ে যান। তারা তিনজন সাঁতার কেটে পাড়ে উঠলেও হারিয়ে যায় বাকি তিনজন।
খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থলে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে জানান উপজেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে দুই পর্যটক তখনও নিখোঁজ থাকায় বিকেল পাঁচটায় নৌবাহিনীর আট সদস্যের একটি ডুবুরি দল নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং একজনকে মৃত উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ অপর পর্যটকের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন নৌবাহিনীর ডুবুরিরা। ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও উপস্থিত রয়েছে।
জানা গেছে, মৃত উদ্ধারকৃত লোকেস বৈদ্য (১৯) চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা গ্রামের অপু বৈদ্যের ছেলে। চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চট্টগ্রাম সদরঘাট এলাকার অপূর্ব সাহা (১৮) নামে একজন বলে জানান তার বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম।
কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পরিদর্শক নুরুল করিম বলেন, গত বছরও একই এলাকায় গোসল করতে নেমে একজন পর্যটক নিখোঁজ হন। সাতার না জানা পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদের পানিতে না নামার জন্য নিষেধ করা হলেও বেড়াতে আসা পর্যটকরা তা না মেনে বিপদ ডেকে আনছে।
একাত্তর/জো
