জামায়াত সংশ্লিষ্টতা, বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা বলে মিথ্যা দাবি এবং সর্বশেষ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকির অভিযোগের পর আবারও অভিযোগের তীর মাহিবুল হাসান মুকিতের খালাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তাদের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতাসহ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা সরকার নামের।
লিখিত অভিযোগে পলাশবাড়ী উপজেলার পাঁচ নং মহোদিপুর ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, মহোদিপুর ইউনিয়ননের সভাপতি রিপন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন তারা দু'জনেই বিতর্কিত মুকিতের খালাতো ভাই। ইউনিয়ন সভাপতি রিপন ধর্ষণ মামলার (জি.আর. ৩১/২০২০) আসামি ও খোকন মাদকের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার বড়ো ভাইয়ের ছেলে মো. ইমরুল কবির চৌধুরী চপল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হন। এ কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। এই চিঠি পাওয়ার পর সেখানে নির্দেশিত সময় মোতাবেক নিজে উপস্থিত হয়ে এই কারণ দর্শানো চিঠির লিখিত উত্তর দেই এবং তার রিসিভ কপি গ্রহণ করি। কিন্তু হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার ইউনিয়নের সভাপতি রিপন ও সাধারণ সম্পাদক খোকনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই ওয়ার্ডের চার জন বাসিন্দাকে দলীয় সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধী। আর এ কারণেই আমি অভিযোগটি করেছি।
তিনি আরও বলেন, তারা উভয়ে আত্মীয়। আর তাদের আত্মীয় মাহিবুল হাসান মুকিত। তাদের সকলের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত ইসলামের সম্পর্ক রয়েছে। আর এ কারণেই স্বাধীনতা বিরোধী এই অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দেকে অভিযোগ জানানো।
এদিকে তার করা এই অভিযোগপত্র প্রসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রিপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল। সে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেছে বলে উপজেলা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আর তাকে বা তার ওয়ার্ডের কমিটি নতুন করে ঘোষণাও করা হয়নি, তাকেও বহিষ্কার করা হয়নি কিছুই বিলুপ্ত করা হয়নি। কিন্তু তার কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পাওয়ার পর উপজেলা কোন চিঠি দেয়ার আগ পর্যন্ত ইউনিয়নের কাজ থেমে থাকবে না। আর এ কারণেই তার ওয়ার্ডের কয়েকজনকে নিয়ে নয়, বরং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজনকে নিয়ে কর্মী সংগ্রহের কাজ তরান্বিত করার জন্য এই চিঠি দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে সম্মেলনের আগে দ্রুত কাজগুলো শেষ করার জন্য। আর এ কারণেই এটি করা হয়েছে।
আমার নানার নাম ফজলে রহমান সরদার। মুকিতের নানা আর আমার নানা এক ব্যক্তি নয়, তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন বলেন, তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় যার উত্তর তিনি দেননি। এখানে আমরা কিছুই করিনি। যা করার সেটা উপজেলা আওয়ামী লীগ করছে। আমরা শুধু ইউনিয়নের কাজ গতিশীল রাখতে সামনের সম্মেলনকে ঘিরে চারজনকে দায়িত্ব দিয়েছি।
এ সময় মৃত. আবদুল সামাদ মৌলভী তার নানা কিনা এবং তার পরিবারে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা বিষয়ক অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার বাবা-দাদাদের পরিচয়েই বড় হয়েছি। আমার বাবা আগেই মারা গেছেন। আমার এক চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর বাকি বিষয়ে আপনি সামনে আসলে আমি কথা বলবো। ফোনে আমি এতকিছু বলতে চাই না।
একাত্তর/এসি
