ধাতব মুদ্রা কাছে থাকলে ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ আসবে এবং প্রচুর ধনসম্পত্তি হবে। শুধু তাই নয়, কাছে থাকা মুদ্রাটি নদীর ধারে পুঁতে রাখলে ভেসে আসবে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা। এছাড়াও রয়েছে ‘অলৌকিক’ আংটি, যা আঙ্গুলে থাকলে খুব সহজেই হওয়া যাবে ধনী। সফলতায় ভরে উঠবে জীবন।
এমনি কথায় আকৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষেরা কেনেন ধাতব মুদ্রা আর আংটি। তবে ধনী হওয়ার আশায় এগুলো কিনে সকলেই হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত। মানুষকে বোকা বানিয়ে ওগুলো বিক্রি করাই ওই চক্রের পেশা। এভাবে তারা হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু অবশেষে র্যাবের জালে ধরা পড়তে হয়েছে তাদের।
বগুড়া শহরের সাত-মাথা এলাকা থেকে এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা ধাতব মুদ্রা ও আংটি দিয়ে প্রতারণা করতেন। ক্রেতাদের বলতেন মুদ্রা ও আংটিতে রয়েছে ‘অলৌকিক ক্ষমতা’। ওগুলো কাছে থাকলে খুব দ্রুত প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হওয়া যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী আমতলা এলাকার কোরবান আলী (৫৮), নামাজগড় (টিনপট্টি মোড়) এলাকার বাসিন্দা উৎপল দত্ত (৪১) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চাপাচি গ্রামের সাইদুল ইসলাম (৪৭)।
মঙ্গলবার (৭ জুন) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার রাত আটটার দিকে বগুড়া শহরের সাত-মাথা এলাকার বিআরটিসি ট্রাক ডিপোর সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি ধাতব মুদ্রা ও দুটি আংটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তাদের কাছে থাকা মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়া র্যাব-১২ ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার (সহকারী পুলিশ সুপার) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধাতব মুদ্রা ও আংটি দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। একই সঙ্গে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের টাকা। তারা বিভিন্ন অলৌকিক কথা বলে মানুষদের আকৃষ্ট করতেন। তাদের কথা বিশ্বাস করে প্রতারিত হতেন সাধারণ মানুষেরা।
আরও পড়ুন: হাতি দেখতে এসে গাছ ভেঙে পড়ে শিশুর মৃত্যু
তিনি আরো জানান, ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, তিনজনকে ধাতব মুদ্রা ও আংটিসহ গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
