বাগেরহাটে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো নানা বয়সের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে সাজানো বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের ছুটির শেষ পর্যন্ত বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঈদের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ, হযরত পীর খানজাহান (রহঃ) মাজার এবং বারাকপুর সুন্দরবন রিসোর্টে দর্শনার্থীদের ঢল দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জানা গেছে, খানজাহান (রহঃ) এর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যর এক অনন্য নিদর্শন। ষাটগম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ পাশে জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। খানজাহান (রহঃ) ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন আরও কিছু কীর্তির মধ্যে রয়েছে। তার মধ্যে মাজার শরিফ, খাঞ্জেলি দিঘি, মোহাম্মদ তাহেরের মাজার, জিন্দাপীরের মাজার, একগম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনীর মসজিদ, পচা দিঘি, চুনখোলা মসজিদ ও সিংরা মসজিদ উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো খানজাহান (রহঃ) এর নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ১৭টি স্থাপনা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।
এছাড়া যাত্রাপুরের কোদলায় অযোধ্যা মঠ, বারাকপুরে সুন্দরবন রিসোর্ট, দশানী শিশু পার্ক, নাগেরবাজার পৌর পার্ক, চুলকাঠি চন্দ্রমহলসহ বিভিন্ন পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখছেন। সুন্দরবন রিসোর্টে সুপার বিমান, সুপার ট্রেন, সুপার হুইল, সুপার চেয়ারসহ বিভিন্ন রাইডে শিশু থেকে নানা বয়সের নারী-পুরুষ চড়ছেন। এছাড়া চিত্রা নদীর পাড়েও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।

খুলনা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আসা দেলোয়ার হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসেছি। মসজিদটির নির্মাণ শৈলী আমাদের মুগ্ধ করেছে।
যশোর থেকে আসমা আক্তার নামে এক কলেজছাত্রী জানান, বই পড়ে ষাটগম্বুজ মসজিদের অনেক ইতিহাস জানতে পেরেছে। এই প্রথম ঈদের ছুটেতে এসে নিজের চোখে দেখা হলো।
বারাকপুর সুন্দরবন রিসোর্টে আসা আলপনা, নাজনীন, হাসান, হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন শিশু জানায়, এখানে এসে ট্রেন, প্লেন, দোলনায় চড়ে তাদের অনেক ভালো লেগেছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে যানবাহনের ধীরগতি
বারাকপুর সুন্দরবন রিসোর্টের ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, করোনার কারণে গেলো দুই বছর লোকসান গুনেছে। এবার নতুন করে নতুন সাজে তাদের রিসোর্ট সাজানো হয়েছে। ঈদের প্রথম দিন থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে।
বাগেরহাট যাদুঘরের কাস্টোডিয়ান জায়েদ জানান, প্রচুর দর্শনার্থী আসছে। বিশেষ করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অনেক বেশি পর্যটক আসছে। পর্যটকরা ষাটগম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন পুরাকীর্তি দেখে মুগ্ধ। ঈদের ছুটিতে আগামী তিন থেকে চারদিন পর্যটকদের ভিড় থাকবে।
একাত্তর/এসি
