জামালপুরের সরিষাবাড়িতে সাত বছর ধরে হাত এবং পায়ে শেকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন আশরাফুল আলম নামে এক যুবক। উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চরহরিপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক রমজান আলীর ছেলে আশরাফুল আলম।
দুর্গম পল্লী চরহরিপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক রমজান আলীর তিন ছেলের মধ্যে বড় আশরাফুল আলম। লেখাপড়ায় ছিল মেধাবী। বাবার অভাবী সংসার। তাই, লেখাপড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পৌছতে পারেনি আশরাফুল আলম।
জমিতে চাষাবাদ করে যা আসে তা দিয়ে সংসার চলে। সারা বছর সংসারে অভাব অনটন পিছু লেগেই থাকে। গত ২০১৫ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার জাহানারা ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামের মেয়ে সোহাগীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করে আশরাফুল আলম। বিয়ের কিছু দিন কাটতে না কাটতেই হঠাৎ করে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
এরপর পাবনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও সুস্থ হয়নি আশরাফুল। বেঁধে না রাখলে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। যাকে সামনে পেতো তাকেই মারধর করতো। আর আশরাফুলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ দিনদিন বেড়েই চলছে। এরমধ্যেই তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম নেয়।
দীর্ঘদিনের শেকলে বন্দি জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে না পারায় অসহায় এখন তার বৃদ্ধ বাবা মা। সহায় সম্বল বিক্রি করে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করালেও ভালো ফলাফল পাননি তারা।
বাবা রমজান আলী বলেন, সাত বছর ধরেই এই অবস্থা চলছে তার। সহায় সম্ভল যা ছিল সবই ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ। এখন তার স্ত্রী ও তিন নাতী সন্তান নিয়ে সংসার অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন। বলছেন, ‘ছেলের চিকিৎসা আর কি দিয়ে করাবো। সরকারের সাহায্য ছাড়া আর কোন উপায় নেই’।
স্ত্রী সোহাগী জানান, ‘বিয়ের পর থেকেই স্বামী পাগল হয়ে গেছে। চিকিৎসা করালে কিছুদিন ভালো থাকে। তার পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে যায়। শেকলে বেঁধে রাখতে হয় তাকে। এর মধ্যে তাদের তিন সন্তান জন্ম নেয়’।
এলাকার লোকজন বলছেন, অভাবের সংসারে নি:স্ব এখন পরিবারটি। আর তাই সরকারি ভাবে আশরাফুলকে সুচিকিৎসা ব্যবস্থার দাবী তাদের।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলছেন, আশরাফুলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তবে, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন তিনি।
একাত্তর/ এনএ
