পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পরকীয়ার জেরে শাম্মী আক্তার (৪০) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাইম আলম (১৭) বাদি হয়ে ফুফু ও সৎ বাবাকে আসামি করে সোমবার (৮ আগস্ট) রাতে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার পর মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ আয়শা খানম রোজি (৫০) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা ও শাম্মী আক্তারের বর্তমান স্বামী সিরাজুল সালেকিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার আয়শা খানম রোজি (৫০) কেএম লাতীফ ইন্সটিটিউশনের শিক্ষিকা ও পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা এমাদুল হকের স্ত্রী।
সিরাজুল সালেকিন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ আলীর ছেলে। নিহত শাম্মী আক্তার শিক্ষিকা আয়শা খানমের ননদ।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারী উদ্যোক্তা শাম্মী আক্তার কেএম লতীফ সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় তলায় দশ বছর ধরে ‘শাম্মী বিউটি পার্লার’ নামের একটি পার্লারের ব্যবসা করে আসছিলেন।
প্রথম স্বামী ফিরাজ আলমের সাথে প্রায় ১৩ বছর আগে বিচ্ছেদের পর সেই সংসারের দুই সন্তান নিয়ে মঠবাাড়িয়া পৌর শহরের থানা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। দুই বছর আগে বিয়ে হওয়া দ্বিতীয় স্বামী সালেকিন ঢাকায় ব্যবসা করেন।
রোববার (৭ আগস্ট) শাম্মী আক্তার ও সালেকিনের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে সালেকিন বাসায় আসেন। সাথে আসেন শিক্ষিকা আয়শা খানমও।
এরপর মাঝরাতে স্বামী সালেকিন ও ভাবী আয়শা খানমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখলে বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বামী সালেকিন আয়শা খানমের সহযোগিতায় মুখে বালিশ চাঁপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে শাম্মী আক্তারকে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত বালিশটি জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ছাত্রলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা
গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমাণ্ড চেয়ে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দুপুরে আদলতে সোপর্দ করা হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
