কুষ্টিয়ায় সৈয়দ মাস-উদ-রুমী সেতুর টোল চাওয়ায় টোলপ্লাজায় কর্তব্যরত ছয় কর্মীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের সৈয়দ মাস-উদ-রুমী সেতুর টোলপ্লাজা এ ঘটনা ঘটে।
টোলপ্লাজায় কর্তব্যরতদের অভিযোগ, টোল চাওয়ায় কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আলমসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, শাকিল, ডাবলু, বিটু, টগর, আলম ও বিল্টু। তারা সকলই টোলপ্লাজায় কর্তব্যরত কর্মী।
এদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রলীগেরও কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে দাবী করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। আহতদের কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যদিও একে তুচ্ছ ঘটনা বলে দাবি করেছে পুলিশ।
এ সংক্রান্ত কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সেখানেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে জেলা ছাত্রলীগের একটি আলোচনা সভায় অংশ নিতে কুমারখালী থেকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেলযোগে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মাস-উদ-রুমী সেতুর টোল প্লাজায় পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত একজন কর্মী একটি মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করে।
এসময় পেছন থেকে আরও ৩০-৪০টি মোটরসাইকেল এসে পৌঁছে ঘটনাস্থলে। প্রতি মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগের দুই থেকে তিনজন করে কর্মী ছিলেন। মোটরসাইকেল থেকে নেমেই তারা টোল প্লাজায় দায়িত্বরত কর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং লাঠিসোটা, কিল ঘুসিসহ মারধর শুরু করে।
সিসিটিভিতে ধারণ করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, টোলঘরে আদায় করা অর্থ একটি গামলা থেকে তুলে নিচ্ছে একজন। এসময় সেখানে দায়িত্বরত একজনকে পেটানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে টোলপ্লাজায় দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাইক্রোডাইনামিকের ম্যানেজার শামীম আহমেদ জানান, বেলা ১১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে আসা যুবকের কাছ থেকে টোল চাইলে ওই মোটরসাইকেলে থাকা যুবক টোল আদায়কারীর ওপর চড়াও হয় এবং পেছন থেকে ৩০-৪০টি মোটরসাইকেলযোগে আসা যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালায় টোল আদায়কারীদের ওপর।
এ ঘটনায় ছয়জন টোল আদায়কারী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শামীম আরও জানান, কিছু টাকাও ছিনিয়ে নেয় ওই যুবকরা। হামলাকারীরা কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা চা শ্রমিকদের
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে আমার কর্মীদের ওপর টোলপ্লাজায় দায়িত্বরত কর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
এতে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবী করেন তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, বিষয়টি শুনেছি তবে এটি তুচ্ছ একটি ঘটনা। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
