কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় দেশের ১৬৭টি চা বাগানে ১২ দিন ধরে চলছে চা শ্রমিকদের আন্দোলন। তবে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার কারণে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শনিবার (২০ আগস্ট) থেকে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সামান্য মজুরিতে সংসার চালাতে পারছেন না তারা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে মালিক পক্ষের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতিসহ আন্দোলন চালিয়ে যাবার কথা বলা হয়। শ্রমিক নেতারা জানান, শনিবার থেকে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগানেও। সকালে জেলার চুনারুঘাটের চানপুর চা বাগানে শ্রমিকরা সমাবেশ করেন। এসময় শ্রমিক নেতারা দ্রুত তাদের দাবি মেনে নিতে বাগান মালিকদের প্রতি আহবান জানান।
এদিকে, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান মুঠোফোনে জানিয়েছেন, চা শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী অবগত হয়েছেন। তিনি সবসময় চা শ্রমিকদের বিষয়ে আন্তরিক। ফলে তাদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই বিষয়ে বিকেল ৫টার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ রাঙ্গাবালীর ৭৭ মাঝিমাল্লা
বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে ফ্যাক্টরির প্রধান ফটকগুলো বন্ধ রয়েছে। চা বাগানে যে কুড়ি পাতা তোলা হতো, সেগুলো গত দশ দিন ধরে তুলতে না পারায় অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট থেকে শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন। পরে ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস চা শ্রমিকরা মানববন্ধন, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেন। ১৪ ও ১৫ আগস্ট ২ দিন স্থগিত থাকার পর ১৬ আগস্ট থেকে আবার পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করছেন তারা।
একাত্তর/এসজে
