সাতক্ষীরায় মাথাবিহীন চা দোকানির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার ও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে র্যাব-৬।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় র্যাব-৬ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাক মোর্শেদ এ তথ্য জানান।
জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন খুলনা শহরের বাচ্চু শেখের পুত্র। সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকান্দা এলাকায় বিবাহ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ অধিনায়ক জানান, গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন আলীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকারী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাথাবিহীন মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয়।
লে. কর্নেল মোস্তাক মোর্শেদ জানান, মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য জবাই করে হত্যা করা হয় চা দোকানী ইয়াছিন আলীকে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী জাকির হোসেন গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে এই কারণ জানান।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ইয়াছিন আলী খুনির আগের ব্যবসায়িক পার্টনার। ব্যবসার সুবাদে খুনি ভিকটিমের কাছে ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। কয়েকবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও টাকা পরিশোধ না করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ আগস্ট রাতে তাকে হত্যা করেন জাকির।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণে আসামী র্যাবকে জানায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে বাইপাস সড়কে ঘর উঠানোর কাজ করার কথা বলে ইয়াছিন আলীকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। গভীর রাতে সুযোগ বুঝে ইয়াছিনের গলায় দা দিয়ে কোপ মারেন জাকির। ইয়াছিন মাটিতে পড়ে গেলে কুপিয়ে ইয়াছিনের শরীর হতে মস্তক আলাদা করে ফেলেন খুনি জাকির। রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
আরও পড়ুন: হাতিয়াতে ৯০২ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক
র্যাব আরও জানায়, হত্যার পর মাথাবিহীন মরদেহ টেনে রাস্তার পার্শ্বে পানিতে ফেলে দেয় জাকির। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার দুরে ব্রিজের নীচে ডোবার মধ্যে ফেলে দেন তার মাথা। পরদিন এলাকার লোকজন রাস্তার পাশে পানিতে মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার চা দোকানি ইয়াছিন আলীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জাকির হোসেনকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
একাত্তর/জো
