মুন্সীগঞ্জে অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খননের কারণে ভাঙছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এভাবে চলতে থাকলে পদ্মা, মেঘনা ও মুক্তারপুর সেতু বিলীন হওয়াসহ পুরো জেলা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকা বাংলাবাজারে পরিদর্শনে এসে এমন শঙ্কার কথা জানালেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।
জিওব্যাগ ফেলে দ্রুত ভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী বলছেন, পদ্মার ভাঙনে কয়েক বছরে মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার ও শিলই ইউনিয়নের দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েকশ' একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে থাকায় সরিয়ে নিয়েছে চারশ' ঘরবাড়ি।
এখনো ঝুঁকিতে আছে দুই ইউনিয়নের একটি হাই স্কুল, পাঁচটি প্রাইমারী স্কুল, সাতটি মসজিদ, পাঁচটি মন্দির, একটি বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজার হাজার বসতঘর। এসব বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস অভিযোগ করে বলেন, শত শত ড্রেজার দিয়ে লৌহজং, সদর ও গজারিয়ার নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে কিংবা না নিয়ে। তবে এসব মহলের ইজারা দিবার সময় নদীর অবস্থান যাচাইবাছাই করেনা প্রশাসন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানা হয়না বলে নদীতে ভেঙে পড়ছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে বিয়েবাড়িতে বজ্রপাতে সাতজন আহত
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন, লৌহজং থেকে দিঘীর পাড় ৩৫ কিলোমিটারের সীমানা থেকে গুরুত্ব বুঝে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। আর শিলই বাংলাবাজারের জন্য ভাঙন রোধে ৯ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পদ্মার ভাঙনে লৌহজং উপজেলার ৩৫ শতাংশ, টংগিবাড়ির ১৫ শতাংশ আর সদরের বেশ কিছু অংশ হারিয়ে মানচিত্র ছোট হয়ে যাচ্ছে এ জেলার।
একাত্তর/এসজে
