সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ভাগ্নের বিরুদ্ধে মাছ চুরির প্রতিবাদ করতে এসে বিরোধে জড়িয়ে ভগ্নীপতিকে কোদাল ও শাবল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে শ্যালকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত সামছুর রহমান গাজী (৫৫) ওই গ্রামের মৃত আবের আলীর ছেলে। আর ঘাতক ফজর আলী ও আহাদ আলী ওই এলাকার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে।
এসময় স্বামীকে ভাইদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে মারাত্মক জখম হয়েছেন নিহতের স্ত্রী মজিদা। আহত অবস্থায় তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে শাহীনুর রহমান জানান, রঘুনাথপুর বিলে তার বাবা ও তার মামার পৃথক মাছের ঘের রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বর্ষার সময় তার ভাই মিজানুর পরিহিত জামা ও গেঞ্জি খুলে ভেড়ির উপরে রেখে বাবার ঘেরে মাছ ধরতে যায়। কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ঘের পাহারাদার চোর চোর বলে চিৎকার করলে মিজানুর জামা কাপড় ফেলে বাড়ি চলে আসে। ওই জামা গেঞ্জি নিয়ে পার্শ্ববর্তী ঘের মালিকরা কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিনের কাছে বুধবার সকালে জমা দেন। চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম পুলিশ আব্দুর রহিমকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে তার সঙ্গে তার ভাই মিজানুরকে দেখা করতে বলেন।
শাহীনুর আরও জানান, নানা আরশাদ আলীর জীবদ্দশায় তার দুই মামা সব জমি লিখে নেয়। এতে পৈতৃক সম্পদ থেকে বঞ্চিত হন তার মা মজিদা। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামার বাড়ি যাতায়াত নেই, তাদের সঙ্গে নেই কোন সম্পর্কও।
তিনি আরও জানান, তার দুই মামা ফজর আলী ও আহাদ আলী দুপুর দুইটার দিকে হাতে কোদাল ও শাবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে তার ভাই মিজানুরকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করায় বাবা প্রতিবাদ করলে মামা ফজর আলী তাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। বাবাকে রক্ষায় ছুটে গেলে মা মাজিদার ডান হাতের মাংসপেশির মধ্যে শাবল ঢুকিয়ে দেয় ছোট মামা আহাদ।
আরও পড়ুন: ১৫ বিদেশী টিয়া ও একটি হনুমানসহ একজন আটক
স্থানীয়রা তার মা ও বাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বাবাকে মৃত বলে ঘোষণা করে এবং মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে বলে জানান শাহীনুর।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান জানান, ঘাতক ফজর আলী ও তার ভাই আহাদ পালিয়ে গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল ও শাবল উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘাতকদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো
