কুয়াকাটায় দিনভর বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা ও উৎসব শেষে সন্ধ্যায় রঙিন হয়ে উঠেছিল উপকূলের আকাশ। প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে আকাশ প্রদীপের (ফানুস) আলোয় দূর হবে অন্ধকার ও সকল পাপ; এ বিশ্বাসে রাতের অন্ধকার আকাশকে নানা রঙে আলোয় আলোকিত করে তোলেন বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ।
এ ফানুস উড়ানো দেখতে কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়া ও সীমা বৌদ্ধ বিহারে ভিড় করে শত শত মানুষ। প্রতিবছরের মতো আশ্বিন মাসের প্রবারণা পূর্ণিমা তিথিতে শত শত ফানুস উড়ানো হয়।
এদিকে রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে কলাপাড়া ও কুয়াকাটার বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির ও রাখাইন পাড়ায় ছিলো প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাখাইনদের বিশ্বাস, স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক স্থাপিত গৌতম বুদ্ধের চুলামনি জাদীকে এই প্রবারণা তিথিতে দেবতারা পূজা করেন। তাই তারা প্রবারণা পূর্ণিমার দিন ফানুস উড়িয়ে পূজা করেন। ফানুস উড়ানোর অর্থ ওই চুলামনি জাদীর প্রদীপ পূজা করা। মন্দিরে বুদ্ধকে প্রদীপ পূজা করা হয় প্রতিদিনই। স্বর্গের চুলামনি জাদীর উদ্দেশে ফানুস উড়িয়ে আকাশে তুলে পূজা করেন তারা এই পূর্ণিমা তিথিতে।
মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উত্তম ভিক্ষু জানান, প্রবারণার শাব্দিক অর্থ প্রকৃতরূপে বারণ বা নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা হলো আচরণীয় ক্ষেত্রে ত্রুটি নৈতিক স্খলন এবং সর্বোপরি চিত্তের মল। এগুলোর নিরোধমূলক অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকলে এগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়। প্রকৃত অর্থে এগুলোই হলো মানুষের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মূল অন্তরায়।
আরও পড়ুন: ৫০ বছরে ৫০০ চুরির পর ধরা পড়লো চোর চক্র

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনের অন্যতম এক উৎসব। এটি গৌতম বুদ্ধ তার ভিক্ষু সংঘের জন্য প্রবারণা অনুজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। ভিক্ষু তিন মাস বর্ষাবাস ব্রত পালনোত্তর আসে প্রবারণা। শ্রদ্ধা, ধর্মীয় মর্যাদায় ও আন্তরিক অনুশীলনের মাধ্যমে ভিক্ষুসংঘের ধর্মাচারের ধারায় গুরুত্বে সাথে এই উৎসব পালিত হয়।
দিনভর এ দিনটিকে ঘিরে কলাপাড়ার রাখাইন পাড়া গুলোতে ছিলো উৎসবের আমেজ। সকালে পূজা শেষে চলে ধর্মীয় আলোচনা। এরপর মন্দির থেকে শুরু করে প্রতিটি পাড়ায় চলে অতিথি আপ্যায়ন পর্ব। কলাপাড়া ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এ উৎসব দেখতে ভিড় করে।
একাত্তর/এসি
