রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা না পেয়ে দলিল লেখককে হাতুড়িপেটা ও দুই লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক কমিশনারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ীর ২নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দলিল লেখক ও ইউপি সদস্য অতুল সরকার। তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে পাংশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, পাংশা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বিশ্বাস, আ. আলীম মুন্সী, মো. জালাল মণ্ডল, শাকিল ওরফে সুজন, আরাফাত হোসেন রঙিন, উজির রাসেল, সিরাজুল ইসলাম মিঠু, আকমল হোসেন মোল্লা ও মো. শরিফসহ ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আহত দলিল লেখক অতুল সরকার জানান, তিনি শুধু দলিল লেখক নন, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্যও (মেম্বার)। তার কাছে ১১ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি প্রথমে ভয়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকী আট লাখ টাকা না দিলে তাকে দলিল লেখার কাজ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকিও দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় পাংশা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মুন্সিসহ বেশ কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন সেরেস্তায় গিয়ে আট লাখ টাকা দাবী করেন। অতুল সরকার এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে তার ডান হাত ভেঙ্গে দেন তারা।
এসময় তারা তার ড্রয়ারে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করে।
পাংশা উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পাংশা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বিশ্বাস এ অভিযোগ অস্বীকার বলেন, অতুল ও সাইফুল ইসলামকে তারা মারপিট করেননি। তার বিরোধীয় পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: ফুল দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ
রাজবাড়ী জেলা বারের আইনজীবী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, বিচারক মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
একাত্তর/এসজে
