চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ওএমএসের চাল পেতে শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচে সারারাত অপেক্ষা করছে অনেক মানুষ।
জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিজন ৩০ টাকা কেজির দরে ৫ কেজি করে চাল পাবেন। কিন্তু, এ চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় স্বল্প আয়ের মানুষকে।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, শেষ হবার আগে চাল পেতে লাইনেই রাতভর অপেক্ষা করছেন কিছু মানুষ।
রাতে ওএমএসের লাইনে অপেক্ষমাণ ভুক্তভোগী এক মহিলা জানান, তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে স্বামী ছাড়া আর কেউ নেই। অভাবের সংসারে সারাবছর চাল কিনে খেতে হয়। বাজারে চাউলের দাম ৬০ টাকা আর স্বামীর দৈনিক আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সামান্য এ আয় দিয়ে বাজারে চাল কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ঘুরেও কোন চাউল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাতভর জেগে লাইনে অপেক্ষা করে পরদিন চাউল নিয়েই ঘরে ফিরবেন।
ডিলারদের দাবি, স্থানীয় খাদ্য বিভাগ চাউলের দৈনিক বরাদ্দ কম দেওয়ার কারণে অনেকে চাল পাচ্ছেন না। এজন্য এত কনকনে শীতের রাতে ঠাণ্ডায় অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করছেন।
ডিলাররা তাদের বরাদ্দ আগের মত প্রতিদিন দুই টন করার দাবি জানিয়ে জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিদিন এক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মান্দায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
গোমস্তাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারেক-উজ-জামান জানান, রহনপুর পৌর এলাকায় চারজন ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। এক টন করে চারজন ডিলারের জন্য চার টন দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ কেজি চালের জন্য ভুক্তভোগীদের সারারাত অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি তার জানা ছিলোনা বলেও জানান তিনি।
রহনপুর পৌর এলাকার কলেজ মোড়ের ডিলার গোলাম রাব্বানী জানান, চালের বরাদ্দ পূর্বের ন্যায় করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি। বরাদ্দের সুরাহা হলেই সারারাত অপেক্ষায় থাকতে হবে না বলে জানান তিনি।
একাত্তর/জো
