বাগেরহাটে হঠাৎ করে ঠাণ্ডাজনিত রোগ সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিন শিশু রোগীদের ভিড়ে শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুধু হাসপাতালে ভর্তিই নয়, বহির্বিভাগেও প্রতিদিন আসছে শতাধিক শিশু।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সরেজমিন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা শেখ রাজিয়া নাসের জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সন্তানদের নিয়ে মায়েদের দীর্ঘ লাইন। কেউ আবার শিশুদের নিয়ে ছুটছেন এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটে কক্ষ এবং কক্ষের বাইরে বারান্দায় শয্যা পাতা হয়েছে। এদিকে এতো শিশুকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক এবং নার্সরা।
হাসপাতালে আসা আক্রান্ত শিশুদের অনেক অভিভাবক জানান, বাগেরহাটে ১০ দিন ধরে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শিশুদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করাও।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শূন্য থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা বহির্বিভাগ ও ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দুইদিন বয়সী শিশু নওশাদের মা মিমি বেগম জানান, জন্মের পরের দিন তার ছেলের ঠাণ্ডা লেগেছে। এর পর থেকে ছেলের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বুকের ভেতর শব্দ হচ্ছে এবং কান্না করছে।
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাখোরগঞ্জ গ্রামের আফজাল মোল্লার স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম জানান, তার তিন মাস বয়সী ছেলে আরাফাত মোল্লা ঠাণ্ডায় চার দিন ধরে অসুস্থ। ছেলের সর্দি-কাশি আর শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার উত্তর মাধবকাঠি গ্রামের শাহানা বেগম জানান, তার ছয় মাস বয়সী মেয়ে জাইফা আক্তার মাহি ঠাণ্ডাজনিত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন তাকে ওষুধ, ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শ্বাসকষ্টের কারণে প্রতিদিন দুইবার করে মেয়েকে নেবুলাইজার দেওয়া হচ্ছে।
শিশু সন্তানরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্তর কথা জানিয়েছেন আরও অনেক অভিভাবক।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা শেখ রাজিয়া নাসের জেলা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খান শিহান মাহমুদ জানান, ঠাণ্ডাজনিত কারণে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে। শয্যা খালি না থাকলেও যে সব শিশুদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া দরকার তাদের মেঝেতে শয্যা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ শিশু সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সে দিকে নজর রাখতে হবে। তাদের বারবার মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
হাসপাতালটির মেডিক্যাল অফিসার ডা. নিশাত তাসনিম জানান, বহির্বিভাগে শিশু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। শূন্য থেকে দুইবছর বয়সী শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বহির্বিভাগে অধিকাংশ শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২৬ শর্তে সাড়ে চার ঘণ্টা সমাবেশের অনুমতি
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার জানান, ঠাণ্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন শতাধিক শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহে জেলা হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত অন্তত এক হাজার ৩০০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৬ শয্যা থাকলেও সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৮ জন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯০ শতাংশ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
একাত্তর/এসি
