ভোলায় ডুবে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল মেঘনা নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে। নদীতে অর্ধনিমজ্জিত জাহাজটি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নদী থেকে সংগ্রহ করতে জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হিড়িক পড়ে গেছে। মাছ ধরা বন্ধ রেখে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তেল সংগ্রহের কাজে।
এদিক নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মৃত্যুসহ পরিবেশ দূষণের আশংকা দেখা দিয়েছে। তবে নদীতে দূষণ রোধে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) ৯ লাখ লিটার ডিজেল এবং দুই লাখ ৩৪ হাজার লিটার অকটেন লোড করে এমভি সাগর নন্দিনী-২ নামের একটি জাহাজ চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
রোববার (২৫ ডিসেম্বর) ভোররাতের দিকে ভোলার তুলাতলি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে অপর একটি কার্গো জাহাজের সাথে সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজটির তলা ফেটে সেটি ডুবে যায়। এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় জাহাজে থাকা ১২ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তবে সকালে জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল মেঘনা নদীতে ছড়িয়ে পড়লে নদীতে থাকা শত শত জেলে সেই তেল নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে বোতল ও কনটেইনার করে এসব তেল সংগ্রহ করেন তারা।

এদিকে মুহূর্তেই সেই তেল কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। নদীতে গোসল করা স্থানীয়রা থেকে শুরু করে নদীর পানি ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়েছেন। তেল ছড়িয়ে পড়ায় নদীর পানি দূষিত হয়ে মৎস্যখাতে এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জেলেরা।
অন্যদিকে, জাহাজ ডুবির পর ভোরে তেল লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডুবে যাওয়া জাহাজ এমভি সাগর নন্দিনী-২ এর মাস্টার মাসুদুর রহমান বেলাল।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ-গৌরীপুরে রেল চলাচল স্বাভাবিক
খবর পেয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নদীর দূষণ রোধে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (ইঞ্জিনিয়ার) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হৃদম।
তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে কোস্টগার্ড কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ এর যুগ্ম পরিচালক আবদুস সালাম।
একাত্তর/এসজে
