লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ওই আসামিকে পেইড সোর্সের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামির নাম নাহিদুজ্জামান বাবু (২৭)। তিনি পাটগ্রাম নিউ পূর্বপাড়া রসুলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। এর আগে বাবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, আমরা জানতে পারি বাবু ভারতের কুচবিহারে অবস্থান করছেন। পরে তাকে ধরতে পেইড সোর্স নিয়োগ করা হয়। আসামি কুচবিহার থেকে বাংলাদেশের পাটগ্রামের দহগ্রাম এলাকায় ঢুকলে পাটগ্রাম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বাবু দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ওয়াজেদ আলীর ওপর বিভিন্ন কারণে ক্ষিপ্ত ছিলেন। ঘটনার দিন (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওয়াজেদ আলীর পিছু নিয়ে তার বাসার সামনে পৌঁছালে ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় উপর্যুপরি আঘাত করেন বাবু। আঘাত পেয়ে রাস্তা সংলগ্ন নিজ বাড়ির ওয়ালের পাশে পড়ে গেলে ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আবারও আঘাত করা হয়। শেষে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করেন বাবু।
এসময় ওয়াজেদ আলীর চিৎকারে লোকজন আসতে থাকলে আসামি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই উপজেলার জগতবের সীমান্ত দিয়ে গরু পারাপারকারীর মাধ্যমে অবৈধ পথে ভারতে পালায়। এর পর রোববার (২৯ জানুয়ারি) মধ্য রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: নানাবাড়িতে নাতির মৃত্যু, শোক সইতে পারলেন না নানি
এসপি জানান, গ্রেপ্তার বাবুকে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি-সার্কেল, পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মুত্তালিবসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তর/এসি
