গাজীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বিরোধপূর্ণ মাছের প্রজেক্ট ও বাঁধ পরিদর্শনে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নে এ হাওমলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ হামলায় একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইকবাল আহমদ সরকার, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার আজহারুল হক ও দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি শামসুল হক ভুঁইয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ওই সময়ে আহত হওয়া চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খানের চাচাতো ভাই নুরু খান ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা।
আহত সাংবাদিকরা জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের চিলনী, রোসাদিয়া ও কুমুন এলাকায় স্থানীয় লোকজনের বিলের জমি ঘিরে নির্মিত একটি বাঁধ কেটে দিয়ে কৃষকের জমি ও খাল অবমুক্ত করার দাবি জানিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষে দুই শতাধিক লোকজনের স্বাক্ষরসহ উপজেলা প্রশাসনে আবেদন জানান। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। গত সপ্তাহের দৈনিক মানবজমিন ও আজকের গাজীপুর পত্রিকায় এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এছাড়াও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ নিয়ে মানববন্ধনের খবর মাইটিভিসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচারিত হয়।
তারা আরও জানান, গত বুধবার রাতেও বাঁধ নিয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকির সঙ্গে দেখা করেন। এরপর রাতে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী সাংবাদিক ইকবাল আহমদ সরকারকে ফোন দিয়ে জানান, তিনি সকালে বাড়ীয়ার ঘটনাস্থলে যাবেন এবং সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোন দিয়ে ওই সাংবাদিককে বলেন, আমি উপজেলা থেকে রওনা দিচ্ছি আপনারাও চলে আসুন।
সাংবাদিকরা জানান, ঘটনাস্থলে গেলে সাংবাদিকদের আগে প্রকাশিত ও প্রচারিত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরাদ আলী ও উপজেলা প্রকল্প পরিচালক কুতুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আহত সাংবাদিকরা শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
জানা গেছে, সাংবাদিকদের সাথে আহত হওয়া স্থানীয় নুরু খান বাদি হয়ে হাবিবুর রহমান খান, মাইদুল ইসলাম, সফিজ উদ্দিন ওরফে সাফি, সবুজ, মোবারক খান ও কাঞ্চনের নামে মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: সাজেকে চাঁদের গাড়ি খাদে, পর্যটক নিহত, আহত সাত
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরাদ আলী জানান, তিনি বুঝে উঠতে পারেননি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো
