পঞ্চগড়ে কাদিয়ানী (আহমদিয়া অনুসারীদের) সম্প্রদায়ের তিনদিনের জলসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে সংঘর্ষের প্রায় আট ঘণ্টা পর কাদিয়ানীদের জলসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
শুক্রবার (৩ মার্চ) রাত ৯টার পর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জলসা বন্ধের এ নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে দুই পক্ষের দুইজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা।
জানা গেছে, নিহতরা হলেন বিক্ষোভকারী পঞ্চগড়ের মহিলা কলেজ রোড এলাকার ফরমান আলীর ছেলে আরিফুর রহমান আরিফ (৩০) ও অপরজন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের নাটোর জেলার বাসিন্দা জাহিদ হাসান (২২)। এদের মধ্যে আরিফ ছাত্রশিবির কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিরা কাদিয়ানীদের জলসা বন্ধের দাবিতে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে জড়ো হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন মুসল্লিরা।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে মুসল্লিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামে বিজিবি ও র্যাব।
সেখানে তারা বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে মুসল্লিদের ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়।
বিক্ষোভকারী মুসল্লিরা বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, ট্রাফিক অফিসে অগ্নিসংযোগ ও কাদিয়ানীদের দোকানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়াও কাদিয়ানীদের বেশ কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার সিরাজুল হুদা জানান, নিহত আরিফ একজন ছাত্রশিবির কর্মী ছিলেন। সংঘর্ষে মুসল্লিদের ছোড়া ইটপাটকেলে আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোচিং সেন্টারের পিকনিকের বাস উল্টে আহত অর্ধশত
তিনি আরও জানান, মুসল্লি ও আহমদিয়াদের সংঘর্ষে জাহিদ নামে এক কাদিয়ানীর মৃত্যু হয় এবং বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আহত হয়। শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, কাদিয়ানীদের জলসাকে ঘিরে বিক্ষোভে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
কাদিয়ানীদের জলসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আর এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেনা বলে আশা প্রকাশ করেন।
একাত্তর/এসজে
