চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দীর্ঘ দশ বছর পর জন্ম নিলো অতি বিপন্ন পাহাড়ি হলুদ কাছিমের চারটি ছানা। এতে বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় কাছিমের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১টিতে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, কাছিমের জন্য বিশেষ খাঁচায় প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করায় এমন সাফল্য পেয়েছেন তারা। বিরল প্রজাতির পাহাড়ি হলুদ এসব
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় পাহাড়ি হলুদ কাছিম। তবে সেটা কোন পাহাড়ি এলাকা বা বন জঙ্গলে নয়, ঘুরে বেড়াচ্ছে চিড়িয়াখানার বন্দি খাঁচায়।

আবাসস্থল ধ্বংস আর মানুষের লোভ-লালসার শিকার হয়ে নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় কচ্ছপের বিভিন্ন প্রজাতি। আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এই প্রজাতিটি বর্তমানে বিশ্বে অতি বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে, যাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে প্রকৃতি থেকে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ২০১৩ সাল থেকেই পাহাড়ি হলুদ প্রজাতির সাতটি কাছিম থাকলেও এতদিন এগুলো কোন বাচ্চা প্রজনন করেনি। তবে ১০ বছর পর এবারই প্রথম ডিম ফুটে জন্ম নিয়েছে চারটি হলুদ কাছিম।
তিনি বলেন, খাবারসহ অনুকূল পরিবেশ পেলে এসব বিপন্নপ্রায় প্রাণীদের প্রজননের মাধ্যমে দেশেই বংশবিস্তার সম্ভব।
চিড়িয়াখানায় হলুদ কাছিমের বাচ্চা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ভিন্ন প্রজাতির এমন কাছিম ও বাচ্চাদের দেখে খুশি তারা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক (অব) ড. শফিক হায়দার চৌধুরী বলেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি হওয়া দরকার।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটের খালে জেলের জালে বিশাল অজগর
বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মিশ্র চিরসবুজ বনেই এসব পাহাড়ি হলুদ কাছিমের বসবাস। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এদের পাওয়া যায়।
একাত্তর/জো
