চার দিনের সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস কিলতান’। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে জাহাজটি ভিড়েছে।
এসময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতিতে ব্যান্ড বাজিয়ে জাহাজটিকে স্বাগত জানিয়েছে। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন ফয়েজ। ১১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজটিতে ১৭১ জন নাবিক, ২০ জন কর্মকর্তা ও পাঁচ জন বেসামরিক সদস্য রয়েছেন।

সফরকালে তারা চট্টগ্রামের নানা ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করবেন। ২১ জুন বিশ্ব ইয়োগা দিবসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ইয়োগা ও এর শারীরিক উপকারিতা তুলে ধরবেন।
এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশ ও বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় এবং সামরিক জ্ঞান বিনিময় হবে বলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা আশা করছেন।
আইএনএস কিলতান হলো P 28 শ্রেণীর অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ) করভেটের তৃতীয় জাহাজ, যা তৈরি করেছে কোলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)। ১১০ মিটার দীর্ঘ ও ৩০০০ টন ডিসপ্লেসিং ক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর বৃহত্তম কর্ভেট। জাহাজটির রয়েছে কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি সুপারস্ট্রাকচারের মতো অত্যাধুনিক গোপন বৈশিষ্ট্যাবলি এবং এতে অস্ত্রশস্ত্র ও সেন্সরসমূহের একটি উন্নততর স্যুট রয়েছে যা এটিকে ‘সাবমেরিন হান্টার’-এর ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করতে সহায়তা করে। জাহাজটি একটি এএসডব্লিউ রোল হেলিকপ্টার বহন করতেও সক্ষম।

লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের একটি সুন্দর প্রবাল দ্বীপ ‘কিলতান’-এর নাম অনুসারে জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে। জাহাজটির মূলমন্ত্র নেওয়া হয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ‘শ্রীর বিজয়ো ভূতির ধ্রুব’ থেকে, যার অর্থ ‘সর্বদা বিজয় ও গৌরব’।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নৌ-সহায়তা দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জাহাজসমূহের এই নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সফর এই দুই নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতা জোরদারকরণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
একাত্তর/এসি
