বাগেরহাটে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হওয়া লকডাউন প্রথম দিনের মতো চলছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল ৬টা থেকে জেলার ৯টি উপজেলার সর্বত্রই ৭ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে।
লকডাউন বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। এসময় আন্তঃজেলা ও উপজেলা গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। জেলার প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট।
লকডাউনের কারণে বাগেরহাটের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সাপ্তাহিক হাঁট ও পশুর হাঁট বন্ধ রাখা হয়েছে। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি।
লকডাউন উপেক্ষা করে যাতে মানুষ অপ্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে যেতে না পারে সে কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট দিয়ে চলছে ভ্রম্যমান আদালত। একই সাথে চলছে পুলিশি টহল। জারি করা হয়েছে বিভিন্ন বিধি নিষেধ।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ১২ লেনের অত্যাধুনিক রিংরোড নির্মাণে চুক্তি সই
সকাল থেকেই জেলার বাসস্ট্যান্ড, দশানী, সাধনার মোড়, ট্রাফিক মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট থেকে অতি জরুরী যানবহান ছাড়া অন্য যানবাহনকে ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তবে লকডাউনের কারণে দিনমজুর এবং হতদরিদ্র মানুষে বিপাকে পড়েছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, কেউ বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।
এদিকে বাগেরহাটে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ৪২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ জন। জেলায় এপর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭৩ জন মারা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে এক হাজার ৮৪৩ জন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির জানান, গত ২৪ ঘন্টায় বাগেরহাটে ১২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৪ শতাংশ।
সঠিকভাবে লকডাউন বাস্তাবায়ন করা গেলে দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিভিল সার্জন।
একাত্তর/আরএইচ
