নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান রোহিঙ্গারা। তারা অধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আলোচনায় রোহিঙ্গারা এ দাবি জানায়।
মঙ্গলবার শরণার্থী দিবস উপলক্ষে উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্পে দুপুর থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা সভার আয়োজন করেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।
সমাবেশের রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ‘আমাদের দেশ আরকান, আমরা রোহিঙ্গা, আমরা বাংলাদেশে থাকতে চাইনা, আমরা নিজের দেশে ফিরে যাবো, আমরা মজলুম, রোহিঙ্গারা মজলুম, বিচার চাই- বিচার চাই, বিশ্বের কাছে বিচার চাই। আইসিসি’র কাছে বিচার চাই।’
তারা বলেন, ২০১৭ সালে আরকান রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হলে আমরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের মানবিক আশ্রয় দিয়েছে। এ দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে, আমরা আর শরণার্থী হয়ে থাকতে চাইনা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আমাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করুন।
সভায় ১০টি বিষয় উল্লেখ করে রোহিঙ্গা নেতারা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষা ও অবিলম্বে নাগরিকত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের পরিচয় সংস্কৃতি এবং ভাষা পুনরুদ্ধার চাই। ন্যায় ও জবাবদিহিতার জন্য আইসিসি ও আইসিজে হস্তক্ষেপ চায়। দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য শক্তিশালী দেশ চীন ও রাশিয়াকে পাশে চাই আমরা। খুব দ্রুত টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দরকার।
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারা মনে করেন, তাদের দেশে ফেরত নিতে আন্তরিক নয় মিয়ানমার।
এফডিএমএন রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিউনিটির বোর্ড সদস্য মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘রিফিউজি দিবস আসে আর যায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ দিনে যাতে আর কোনো মানুষ নতুন করে রিফিউজি না হয়। যাতে আজকের দিনে রিফিউজি দিবস শেষ হয়।’

বাংলাদেশের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এপক্ষ থেকে সব চেষ্টাই করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নত দেশগুলো বলছে, এখনো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
এদিকে গত দু’মাসে বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা প্রত্যাবাসন নিয়ে দু’দেশে যাওয়া আসা করছেন। আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা নিয়ে কেউ কোন তথ্য দিতে পারছে না।
আরও পড়ুন: ‘রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না’
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন ও পুরনো মিলে এখন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অবস্থান কক্সবাজারে।
একাত্তর/আরএ
