কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার সাত বছর আজ। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পাঁচ বছরেও এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় আক্ষেপ জানিয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। এদিকে জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জেুর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে যখন লাখো মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো, তখনি মাঠের অদূরে পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। দুই পুলিশ সদস্য আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে। আহত হন পুলিশের আরো ১২ সদস্য।
সে সময় গোলাগুলিতে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক। মারা যায় জঙ্গি আবির রহমান। এ ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলেও পাঁচ বছরে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু না হওয়ায় আক্ষেপ স্থানীয়দের।
ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের স্বামী গৌরাঙ্গ নাথ ভৌমিক বলেন, আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, তারা এ ধরনের আর কোন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনোই দেখতে চান না।
আসামিদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১৯ জন মারা গেছে। জীবিত পাঁচ জনের মধ্যে দুইজন আছে কিশোরগঞ্জ কারাগারে আর বাকিরা বিভিন্ন কারাগারে বন্দি। জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, সব আসামিকে এক সাথে হাজির করতে না পারায় সাক্ষ্য গ্রহণ দেরি হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু নাসের মো. ফারুক সন্জু বলেন, আগামী তারিখে আমরা পাঁচজন আসামিকে হাজির করতে পারবো।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, দুই পুলিশ সদস্য জীবন দিয়ে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করে আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করে গেছেন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার রাসেল শেখ বলেন, আমাদের সদস্যদের আত্মত্যাগের শিক্ষা আমরা অনুসরণ করে যাচ্ছি।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে কক্সবাজারে
পুলিশি তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আগামী ২৫ জুলাই সাক্ষী গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
