রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি হচ্ছে বৃহস্পতিবার রাতেই। এ নিয়ে সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম। এদিন রাতেই দুইজনকে ফাঁসি দেয়া হবে বলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
রাতে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই সোহরাব হোসেন কারাগারে প্রবেশ করেছেন। ভাইয়ের লাশ গ্রহণ করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে। ডাকা হয়েছে মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যকেও।
কারাগারে ঢুকতে দেখা গেছে কারা চিকিৎসক ডা. মিজান উদ্দিন ও ডা. জুবায়েরকে। প্রবেশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কারাগারে সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁসি স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। পরে দুপুরে কারা কর্তৃপক্ষের ডাকে দুই আসামির পরিবারের ৩৫ জন সদস্য কারাগারে তাদের সাথে দেখা করতে যান।
এরপর শুরু হয় ফাঁসির আনুষ্ঠানিকতা। কয়েকদিন ধরেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০০৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক তাহেরের মরদেহ। তিন ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে নৃশংস হত্যার শিকার হন অধ্যাপক তাহের। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত চার জনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেয়।
একাত্তর/আরবি
