করোনাভাইরাসের কারণে জীবনের সবচেয়ে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। গত দুই বছরে আয় রোজগার কম থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকেই। বিশেষ করে দিন এনে দিন খাওয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক।
এ অবস্থায় চাঁদপুরের প্রান্তিক মানুষের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি। যদিও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহামারীর এই সময়ে কিস্তির টাকার জন্য কোন গ্রাহককে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কিন্তু তারপরও কৌশলে কিস্তির টাকা তুলছে এনজিও সংস্থাগুলো।
প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ জানেনই না সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে। তাই গরীব অসহায় এসব ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থে ও তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও জোরালো প্রচার প্রচারণার দাবি করেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: মোগলাই পরোটা খেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ
গ্রামীণ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে এনজিও সংস্থা থেকে বিশেষ প্রয়োজনে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে থাকে। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবায় অনেকেরই আয় রোজগার নেই। যেখানে জীবন বাঁচানো দায় সেখানে ঋণের কিস্তি আরো বড় দায়। প্রকৃতির এমন কঠিন সময়েও থেমে নেই অনেক এনজিও সংস্থার কিস্তি আদায়।
এসময় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড কি হবে সে বিষয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের কোনো ধারণাই নেই।
অথচ, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে এসে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে টাকা আদায় করছেন। এতে করোনাকালীন এই বিপর্যয়ের সময়ে আরো বিপর্যস্ত মানুষ।
যদিও এনজিওগুলোতে কর্মরত মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দাবি, কোন প্রকার চাপাচাপি বা জোরপূর্বক কিস্তি আদায় করছেন না তারা। যারা পারছেন তারাই দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চাঁদপুরে ৪৩টি এনজিও প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে অন্তত দুই লাখ গ্রাহক রয়েছে ।
একাত্তর/এসজে
