পরিবেশ বিনাশী লাল ইটের বদলে কংক্রিটের তৈরি ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার। এই ইট উৎপাদনে ক্ষতিকর কোনো কার্বন নিঃসরণ হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হবে না। এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্লক ইট তৈরির কারখানা চালু হলো বৃহস্পতিবার। প্রচলিত লাল ইটের তুলনায় এটি দামেও সস্তা হবে, কমবে নির্মাণ ব্যয়।
বালি, জিপসাম, সিমেন্ট, চুন, অ্যালুমিনিয়াম পেস্ট আর পানি দিয়ে তৈরি হচ্ছে কেকের মতো এই মিশ্রণ। যা থেকেই তৈরি হবে আধুনিক এয়ারটেড এরেটেড কংক্রিট বা এএসি ব্লক।
যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার একেবারেই কম। মানিকগঞ্জে দেশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ম্যাক্স গ্রুপ এই কারখানা চালু করেছে। যেখানে প্রতিদিন এক হাজার কিউবিক মিটার ব্লক তৈরি হবে। বলা হচ্ছে, পরিবেশবান্ধব এবং ভূমিকম্প সহনশীল ব্লক ইট শব্দ, আগুন ও তাপ নিরোধক।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আর এ এম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, কার্বন নিঃসরণ একেবারে শূন্যে নিয়ে আসার টার্গেট নিয়ে প্যারিসে একটা ঘোষণায় আমরা ৭০টা দেশ একসাথে সই করেছি। সুতরাং আমরা এটা চাই।
এই ইট তৈরিতে যে পানি ব্যবহার করা হয় তাকেও একটি নিয়ন্ত্রিত মানে নিতে হয়। সে জন্য তৈরি করা হয়েছে পানি শোধনাগার। তবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে টেনে নেয়া পানি।
যা দীর্ঘ মেয়াদে এই এলাকাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। যেটি স্বীকার করলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। তবে বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টাও চলছে বলেও জানান তিনি।
ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা এমন পানি নেব না যেটা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে এ এলাকায় সমস্যা করবে। এর মধ্যে আমরা চিন্তা করছি নদী থেকে পানি আনতে পারবো কিনা।
এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ দেশের জলবায়ুর মান ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখলেও তা কোথায় নির্মাণ হচ্ছে সেটিও যাচাই করতে হবে। নয়তো তৈরি হতে পারে নতুন সংকট।
কৃষকরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: স্পিকার