সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণের মৌসুম। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন থেকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র (পাস) দেয়া শুরু হয়েছে।
প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও এবছর ঈদুল ফিতরের কারণে তা দুইদিন পিছিয়ে যায়। তবে এবার সুন্দরবনে যাওয়ার আগ্রহ অনেকটা কম মৌয়ালদের। দস্যুদের হাতে অপহরণ হতে পারেন এমন ভয়ে আছেন তারা। আবার দস্যুদের ভয়ে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না মধু ব্যবসায়ীরাও। ফলে মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেকটা কম এবার।
পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেক কম। প্রথম দিন (৩ এপ্রিল) ১৮টি নৌকা পাস নিয়েছে। যেখানে গত বছর প্রথম দিন ৩৩টি নৌকা পাস নিয়েছিলো। পাসের সংখ্যা আশানুরূপ না হলে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বন বিভাগ।
মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দস্যুদের ভয়ে অনেকেই এবার মধু আহরণে যাবেন না। দস্যুর হাতে অপহরণ হলেই ছাড়া পেতে দুই-তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়। এ কারণে অসংখ্য মৌয়াল এবার নৌকায় পাস করেননি।
মধু ব্যবসায়ী মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী, মনিরুজ্জামান জানান, আগে বনে ঢুকলেই বনদস্যুদের চাঁদা দিতে হতো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে যেতেন মৌয়ালরা। চাঁদা দিতে না পারলে অপহরণ ও নির্যাতন করা হতো। ২০১৮ সালে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর সুন্দরবনে নির্ভয়ে মধু আহরণ করে আসছেন মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবিরা। কিম্তু গত কয়েকমাস আগে হঠাৎ করে কয়কেটি দস্যু বাহিনীর আবির্ভাব ঘটায় তার আতঙ্কে আছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব জানান, এবার বনদস্যু নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো নৌকা দস্যুদের কবলে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বন অফিসগুলোতে জানানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মৌয়ালদের।
কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় নিহত
ধুমধাম আয়োজনে চলছিলো বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ