বরগুনা পৌর শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় মাদকাসক্তের হাত থেকে রেহাই পাননি জন্মদাত্রী মা ও পেটের দুই বোন। গাঁজা সেবন করে নেশার টাকার দাবিতে কুপুত্র সুমন খলিফা (৩৫) তাঁর ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ও দুই বোনকে বেদম মারধরসহ বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
তবে এই নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পার পাননি তিনি; পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়েছে জেলহাজতে। আদালত দুটি পৃথক অপরাধে এই কুলাঙ্গার যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছে।
বুধবার রাতে বরগুনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ মনিরুজ্জামান সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, বরগুনা পৌর শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসিন্দা সুমন খলিফা দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত। মঙ্গলবার বিকেলে নেশার টাকার জন্য উন্মাদের মতো চড়াও হন নিজ পরিবারের ওপর। মাদকের টাকার দাবিতে তিনি তাঁর জন্মদাত্রী মা মোসাঃ নিলুফা (৬০), ছোট বোন নিশিতা শিমু (২৯) এবং সুমাইয়া আক্তার মিমকে (২৪) বেধড়ক মারধর করেন। কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, তাণ্ডব চালিয়ে বসতঘরের বেশ কিছু মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন তিনি।
নির্যাতনের শিকার অসহায় স্বজনদের কাছ থেকে জরুরি ফোন ও অভিযোগ পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুমন খলিফাকে হাতেনাতে আটক করে হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার রাতে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সুমনের 'ডোপ টেস্ট' করলে তার শরীরে গাঁজা সেবনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি (পজেটিভ) ধরা পড়ে।
ঘটনার সত্যতা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাহাদৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ জানান, সুমন খলিফাকে গ্রেফতারের পর ডোপ টেস্টে তাঁর নিয়মিত নেশা করার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়।
এরপরই বুধবার রাতে তাঁকে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মোঃ মনিরুজ্জামান সংক্ষিপ্ত বিচারে দুটি আলাদা অপরাধ বিবেচনা করে সাজা ঘোষণা করেন, গাঁজা সেবনের অপরাধে ৩ মাসের জেল এবং নিজের মা ও বোনদের মারধর-নির্যাতনের অপরাধে আরও ৩ মাসের জেলসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও সাজা পরোয়ানা শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন খলিফাকে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্তদের এমন পারিবারিক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিচার বিভাগের এই তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ সচেতন মহল।
কুকি-চিনের পোশাক বানাতে কোটি টাকা লেনদেন, সিআইডির মামলা
দশমিনায় ‘উধাও’ এক কিলোমিটার পাকা সড়ক!
সেতুর অনুমোদন পেতেই মীরগড়ে মিষ্টি বিতরণ!